Followers

Tuesday, August 20, 2024

গার্মেন্ট কারখানায় নারী শ্রমিকের সংখ্যা কমে ৫৭ শতাংশে নেমে এসেছে

 

কয়েকদিন ধরে ঢাকা ইপিজেড এর গেইটে কিছু চাকুরী প্রত্যাশী বেক্তি দাবী তুলেছেন যে, ঢাকা ইপিজেডের কারখানা গুলোতে নারী শ্রমিকের পরিবর্তে ৭০ শতাংশ পুরুষ শ্রমিক নিয়োগ দিতে হবে।

একসময় পোশাক খাতের মোট শ্রমিকের ৮০ শতাংশের বেশি ছিলেন নারী এবং ২০ শতাংশের কম ছিলেন পুরুষ শ্রমিক কিন্তু বর্তমানে তৈরি পোশাক খাতে নারী শ্রমিকের সংখ্যা কমছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাপড ইন বাংলাদেশের (এমআইবি)র মতে, পোশাক খাতে নিযুক্ত মোট শ্রমিকের মধ্যে নারীর সংখ্যা কমে ৫৭ শতাংশে নেমে এসেছে এবং পুরুষ শ্রমিক বেড়ে ৪৩ শতাংশে।

অথচ একসময় পোশাক খাতের মোট শ্রমিকের ৮০ শতাংশের বেশি ছিলেন নারী। বিশেষ করে যারা গ্রামাঞ্চল থেকে রাজধানীতে এসে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করতেন তারা এই খাতে কাজ নিতেন।

দেশে অন্যান্য খাতে চাকরির সুযোগ খুব সীমিত থাকায় আশির দশকে মূলত অদক্ষ নারী শ্রমিকরা পোশাক খাতের হাল ধরেন। বছরের পর বছর ধরে নারী শ্রমিকদের অবদানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প। বিশ্ব বাজারে তৈরি পোশাকের ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বাংলাদেশের দখলে।

তখন বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় অনেক কম হওয়ায় নারী শ্রমিকরা কম বেতন হলেও চাকরি নিতে আগ্রহী ছিলেন।

এরপর বহু বছর ধরে পোশাক খাতে পুরুষ শ্রমিকের বিপরীতে গড়ে অন্তত দুজন নারী শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হতো।

তবে, সাম্প্রতিক সময়ে এই অনুপাত কমেছে। যার কারনে নারী শ্রমিকের সংখ্যা কমে ৫৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এবং পুরুষ শ্রমিক বেড়ে ৪৩ শতাংশে।

তাই আমার মনে হয়েছে যেসব চাকুরী প্রত্যাশী বেক্তিরা দাবী তুলেছেন যে, ঢাকা ইপিজেডের কারখানা গুলোতে নারী শ্রমিকের পরিবর্তে ৭০ শতাংশ পুরুষ শ্রমিক নিয়োগ দিতে হবে। তারা আসলে নারীদের পিছিয়ে রাখতে চাচ্ছেন। কারখানা গুলোতে শ্রমিকদের চাকুরী হওয়া উচিৎ দক্ষতা অনুযায়ী। নারী ও পুরুষ শ্রমিক এর যে যার যে দক্ষতা আছে তার সেই পদে চাকুরী হওয়া উচিৎ। শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ এর বৈষম্য থাকা উচিৎ না।

লিখেছেনঃ খাইরুল মামুন মিন্টু, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা।

Thursday, August 15, 2024

মুক্ত বলতে যা বোঝায় তা কখনোই ছিলাম না, আগামীতেও হবো কি না?

 

বিভিন্ন জাতিসত্তা, ভাষা, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মানুষ সে রাষ্ট্রের নাগরিক অথচ অনেক স্বাধীন দেশের সব শ্রেণির মানুষ সমান স্বাধীন ও মুক্ত নয়। যেমন, ১৯৭১ সালের আগে পাকিস্তান ছিল স্বাধীন ও সার্বভৌম, কিন্তু তার সব নাগরিক স্বাধীন ও মুক্ত ছিল না। পূর্ব পাকিস্তানে আমরা কি তাহলে কারারুদ্ধ ছিলাম? না, তা-ও ছিলাম না। আমরা হাঁটা-চলাফেরা করেছি, হাটবাজার করেছি, কিন্তু মুক্ত বলতে যা বোঝায় তা ছিলাম না।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তি যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম, কিন্তু বাংলাদেশের সব নাগরিক স্বাধীন ও মুক্ত হয়েছে কি? মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ন্যায়সংগতভাবে প্রাপ্যতা পেয়েছে কি?

আমার মনে হয়েছে, হয়নি। বাংলাদেশের মানুষ সেই গণতান্ত্রিক অধিকার চায়, যা তার ন্যায়সংগতভাবে প্রাপ্য। যার জন্য আমরা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তি যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ অর্জন করেছি কিন্তু দেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম পাওয়ার পরেও গণতান্ত্রিক অধিকার ও ন্যায়সংগতভাবে প্রাপ্য অধিকার আদায়ের জন্য এখন পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলছে।

অনেকে মনে করছেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনাতার গণ-অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা সরকার বিদায় নিয়েছে। তার মানে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ন্যায়সংগতভাবে প্রাপ্য অধিকার আদায় হয়েছে। কিন্তু অতীত তা বলছে না। মানুষ ভারতীয় উপমহাদেশে ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ব্রিটিশ শাসনের সময়কাল থেকে এখন পর্যন্ত মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ন্যায়সংগতভাবে প্রাপ্য অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের হাতে নিগ্রহ ও শোষণের ইতিহাস যার অন্য পিঠে ছিল ১৯৫৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সামরিক শাসন। পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বৈষম্য ছিল। মোট জাতীয় বাজেটের সিংহভাগ বরাদ্দ থাকত পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য।

মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ন্যায়সংগতভাবে প্রাপ্যতা আদায় ও বৈষম্য দুরকরার জন্য আমরা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তি যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ অর্জন করেছি।

১৯৭১ সালের পরে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ন্যায়সংগতভাবে প্রাপ্য অধিকার আদায়ের কথা বলে ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্টের ভোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার নিজ বাসভবনে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী ও উচ্চাভিলাষী বিশ্বাসঘাতক অফিসারদের হাতে সপরিবারে নিহত হন যা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কময় দিন।

১৯৮১ সালের ৩০শে মে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ন্যায়সংগতভাবে প্রাপ্য অধিকার আদায়ের কথা বলে নিয়ন্ত্রণ নেয় অভ্যুত্থানকারীরা।

মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ন্যায়সংগতভাবে প্রাপ্য অধিকার আদায়ের কথা বলে রক্তপাতহীন একটি অভ্যুত্থান এর মাধ্যে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এই দিনে ভোরে দেশে সামরিক শাসন জারি করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সরিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা হাতে নেন জেনারেল এরশাদ।

টানা ৯ বছর দেশ শাসন করেছেন জেনারেল এরশাদ। তাঁর স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত ইসলাম, সিপিবিসহ সব দলকে আন্দোলন করতে হয়েছে দীর্ঘ সময়। শেষ পর্যন্ত ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণ–আন্দোলনের মুখে পতন হয় জেনারেল এরশাদের শাসনের।

তারপর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসে এবং তারা দেশের উন্নয়নের কথা বলে বিভিন্ন কায়দা কানুন করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিল কিন্তু গণ–আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ আগেই ঘোষণা দিয়েছিল যে, কে এম হাসান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হলে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে। সেই বার ২৮ অক্টোবর সামনে রেখে ঢাকা শহরে ছিল টানটান উত্তেজনা। আওয়ামী লীগ পল্টন ময়দানে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে এবং নেতা–কর্মীদের লগি–বৈঠা নিয়ে আসতে বলে। বিএনপি ওই দিন নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ও জামায়াতে ইসলামী বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সমাবেশের কর্মসূচি নেয়। দুই পক্ষের রণপ্রস্তুতিতে সংঘাতের আশঙ্কা করা হয়েছিল।

এই প্রেক্ষাপটে ঢাকা মহানগর পুলিশ পল্টন ময়দান ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় প্রায় ১৫ হাজারের মতো পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তারপরও সেদিন সংঘাত বন্ধ  ছিল না। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও জামায়াত–শিবিরের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয় বায়তুল মোকাররম এলাকায়। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ওই দিনই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতির কাছে ইস্তফাপত্র দেন।

ড. ফখরুদ্দীন আহমেদ অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝে ২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারি তিনি বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০০৯ সালের জানুয়ারীতে সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বারা সৃষ্ট বিশৃঙ্খল অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৭ সালের ১২ই জানুয়ারি তত্ִকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ দেশে জরুরী অবস্থা ঘোষনা করেন। একই সাথে সেনা সমর্থিত একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয় যার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ফখরুদ্দীন আহমেদকে নিয়োগ করা হয়। ফখরুদ্দিন আহমেদ ক্ষমতা গ্রহনের মধ্য দিয়ে ইতোপূর্বে রাষ্ট্রপতিকে প্রধান উপদেষ্টা করে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত হয়। তিনি ২ বছর কেয়ার টেকার ছিলেন, ফখরুদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব গ্রহনের পর তত্ִকালীন জাতীয় জীবনে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা হ্রাসে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখার জন্য বেশ প্রশংসিত হন।

সে সময় বিশ্বের সর্বাধিক দূর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশে ফখরুদ্দীন আহমেদ দূর্নীতিবিরোধী নানান কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সে সময় দেশের প্রায় ১৬০ জন রাজ্নীতিক, সরকারী কর্মকর্তা, নিরাপত্তা কর্মকর্তার নামে অর্থ আত্মসাত্ִ ও অন্যান্য দূর্নীতির অভিযোগ এনে মামলা করা হয়।এসময় দেশের ভূতপূর্ব দুই প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০০৯ সালের ৬ই জানুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে আওয়ামী লীগ দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে ফখরুদ্দিন আহমেদ গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত হয়।

মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ন্যায়সংগতভাবে প্রাপ্য অধিকার আদায়ের কথা বলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ও জনতার ২৩ দিনের দেশ কাঁপানো আন্দোলনে শত শত মানুষের রক্তের বিনিময়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন শেখ হাসিনা। এরপর বঙ্গভবন থেকেই হেলিকপ্টারে দেশ ছাড়েন। শেখ হাসিনার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে তাঁর টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের অবসান হলো।

গত ৮ আগস্ট ২০২৪, নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দেশে ১৭ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকার কত দিন থাকবে তা এখন পর্যন্ত ঠিক নেই। তবে এই কইদিনে আমার মনে হয়েছে শেখ হাসিনার সরকারের পথেই হাটছে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দেশে ১৭ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ২০০৯ সালের ৬ই জানুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিরোধী মতের লোকদের গ্রেফতার করে অমানবিক নির্যাতন, রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের হয়রানি ও গণগ্রেফতার মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে ফ্যাসিবাদী একনায়কত্ব তৈরি করে, নির্বাচনী বিজয়, সহিংসতা এবং জরুরি ক্ষমতার সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা লাভ করে। ইউরোপের অন্যান্য জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ফ্যাসিবাদী মডেলের উপর ভিত্তি করে একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল। একটি গণতান্ত্রিক সরকার মানে হলো জবাবদিহিমূলক সরকার। তারা সংবিধানিক প্রক্রিয়াকে অপব্যবহারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার বিকৃতি ঘটাতে পারবে, তাহলে তারা মারাত্মক ভুল করবে।

ইতিহাসের অমোঘ সত্য হলো প্রত্যেক একনায়কই মনে করে যে তারা তাদের দেশে এক অভূতপূর্ব সমৃদ্ধি ও শান্তি বয়ে আনতে পারবে, যদি শুধু তারা দেশের মধ্যে নাগরিক সমাজের বিরক্তিকর কণ্ঠস্বর ও বিরোধীদের সমালোচনাকে থামিয়ে দেয়। শেখ হাসিনা প্রথম ও শেষ শাসক নন, যিনি এই মোহের ফাঁদে পড়েছিলেন। প্রত্যেক (স্বৈর) শাসকই উন্মাদনায় মেতে ওঠে আর শেষ পরিণতিতে সেনাবাহিনী অথবা উন্মত্ত জনতা শাসকের প্রাসাদ তছনছ করে দেয়।

উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়ে গণ-অভ্যুত্থানে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ করার কথা বলেছেন বৈষম্যবিরোধী নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দেশে ১৭ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিন্তু বাস্তবতা দেখার জন্য আমাদের আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

আমি মনে করি কোনো দেশের রাস্তাঘাট, বড় বড় স্থাপনা বা অবকাঠামো নির্মাণের জন্য সীমাহীন রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জনের প্রয়োজন হয় না। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের জনগণের জন্য সমতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে’ বর্তমান মুক্তিযুদ্ধ।

স্বাধীনতাসংগ্রামে যাঁরা নেতৃত্ব দেন এবং ভূমিকা রাখেন, ইতিহাসে তাঁরা উতরে যান। তাঁদের দায়িত্ব শেষ। জনগণের মুক্তির জন্য কাজ করতে হয় প্রজন্মের পর প্রজন্মের। স্বাধীনতাসংগ্রামী ও মুক্তিযোদ্ধাদের চেয়ে তাদের দায়িত্ব কম নয়। তাদের ব্যর্থতা ও সফলতার ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা ও সাফল্য।

লিখেছেনঃ খাইরুল মামুন মিন্টু, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা।

Wednesday, May 1, 2024

যাঁদের নিয়ে এই দিবস, তাঁরা এ সম্পর্কে কতটা অবগত?

 

পয়লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। দিনটিকে আমরা মে দিবস বলেও জানি। আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলন ও শ্রম অধিকার আদায়ের এ দিনটি বছরের পর বছর ধরে বিশ্বব্যাপী যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে। শ্রমিকদের সম্মানে মে দিবস বা পয়লা মে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালন করে বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশ। কিন্তু যাঁদের নিয়ে এই দিবস, তাঁরা এ সম্পর্কে কতটা অবগত? অনেক শ্রমিক জানেনই না এর ইতিহাস।

উনিশ শতাব্দীর আগে কারখানার শ্রমিকদের দৈনিক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চাইতেও বেশি। কিন্তু কাজ অনুপাতে পারিশ্রমিক ছিল স্বল্প। যা তাঁদের জীবনধারণের জন্য যথাযথ ছিল না। একটা পর্যায়ে শ্রমিকপক্ষ ক্ষুব্ধ হতে থাকে। যা এক সময় আন্দোলনে রূপ নেয়। ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে একদল শ্রমিক মালিকপক্ষকে দৈনিক আট ঘণ্টা কর্মসময় নির্ধারণের দাবি জানায়। এ দাবি পূরণের সময় হিসেবে ১৮৮৬ সালের ১ মে নির্ধারণ করেন শ্রমিকেরা। কিন্তু কারখানার মালিকেরা শ্রমিকদের এ দাবি কানে তোলেননি। ফলাফলে ১৮৮৬ সালের ৪ মে শিকাগোর হে মার্কেট নামক স্থানে ফের আন্দোলন গড়ে তোলেন শ্রমিকেরা। সেখানে পুলিশ আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর গুলি বর্ষণ করলে নিহত হন ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক।

এ ঘটনার দুই বছর পর ১৮৮৯ সালে প্যারিসে ফরাসি বিপ্লবের ১০০ বছর পূর্তিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের প্রথম কংগ্রেসে শিকাগো শ্রমিক আন্দোলনের দিনটিকে ১৮৯০ সাল থেকে পালনের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। পরের বছর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কংগ্রেসে প্রস্তাবনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। পরে ১৯০৪ সালে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে অনুষ্ঠিত সমাজতন্ত্রীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের সময় নির্ধারণের দাবি আদায় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বব্যাপী মে মাসের প্রথম দিন মিছিল ও শোভাযাত্রার আয়োজন করতে সব সমাজবাদী গণতান্ত্রিক দল ও শ্রমিক সংঘের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এ আহ্বানের সাড়া হিসেবে বিশ্বের প্রায় সব শ্রমিক সংগঠন ১ মে বাধ্যতামূলক কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। অনেক দেশের শ্রমিকেরা মে মাসের ১ তারিখ সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালনের দাবি জানান। বিভিন্ন দেশে মে দিবস সরকারিভাবে ছুটির দিন হিসেবে পালিত হতে থাকে। ধীরে ধীরে রাশিয়া, চীন, বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এ দিনটির তাৎপর্য ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠা পায় শ্রমিকদের দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করার দাবি।

শ্রমিকদের অধিকার ও দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে মে দিবস পালিত হয়। স্বাধীনতার পর মে দিবস রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে মহান মে দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মে দিবসকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয় মে দিবস। এই দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য থাকে শ্রমিকদের তাঁদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা। যাতে করে তাঁরা মে দিবসের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারেন ও নিজ অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে আমরা মে দিবস পালন করি, সেটি কতটা সফল হয়, তা নিতে প্রশ্ন আসতে পারে। আসাটা বেশ স্বাভাবিক।

মে দিবসে সব সরকারি, আধা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ। তবুও কিছু মানুষ রুটিরুজির সন্ধানে বেরিয়ে পড়েছেন কাজে। কারণ এক বেলা কাজ না করলে তাঁর পরিবারকে কাটাতে হবে অনাহারে। কারও কারও আবার মেলে না ছুটি। ছুটির দিনে কাজের জন্য জোটে না বাড়তি অর্থও। আট ঘণ্টা কাজের কথা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনিয়ম চোখে পড়ার মতো। কাজ করতে হচ্ছে আট ঘণ্টার অধিক। দেওয়া হচ্ছে না ওভারটাইম বা অতিরিক্ত সময়ের পয়সা। মে দিবস পালন তো এসব মানুষের কাছে একপ্রকার বিলাসিতাই।

আমরা দেখি বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক কর্মরত। প্রতিটি তৈরি পোশাক কারখানায় আট ঘণ্টার বেশি কাজ হয় প্রতিদিন। ওভারটাইম করতে আগ্রহী না থাকলেও বাধ্য হয়ে তা করতে হয়। সেই ওভারটাইমের টাকাও ঠিকমতো পাওয়া যায় না বা দিতে নানা ছলচাতুরী করে মালিকপক্ষ। শুধু গার্মেন্ট শিল্প নয়, অধিকাংশ খাতে এমন পরিস্থিতি আমরা দেখতে পাই।

ইপিজেড বা জোনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিক নিয়োগ, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সম্পর্ক, সর্বনিম্ন মজুরির হার নির্ধারণ, মজুরি পরিশোধ, কর্মস্থলে দুর্ঘটনার শিকার শ্রমিকের জখমের জন্য ক্ষতিপূরণ, শ্রমিকের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে দেশে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। আইন থাকার পরও শ্রমিকরা এই আইনের সুরক্ষা পাচ্ছেনা। শ্রম আইনে প্রতি পাঁচ বছর পর পর গার্মেন্ট শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করার কথা থাকলেও শ্রমিকদের আন্দোলন জোরদার না হলে তা হয়না। গত ডিসেম্বরে ন্যূনতম মজুরির আন্দলন করতে গিয়ে একজন নারী শ্রমিক সহ তিন জন শ্রমিক নিহত হয়। গ্রেফতার এবং আহত হয় কয়েকশত শ্রমিক।হাজার হাজার শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করা হয়।

বাংলাদেশে রানা প্লাজা, তাজরীন গার্মেন্টসহ অনেক দুর্ঘটনায় অসংখ্য শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন, জীবন্ত পুড়ে কয়লা হয়েছেন। সেই সঙ্গে হারিয়েছেন বহু আশা ও স্বপ্ন। অনেক পরিবার হারিয়েছে তাদের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। সামান্য ক্ষতিপূরণে তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। অনেক সময় সরকার যথাযথ উদ্যোগ নিলেও মালিক-শ্রমিক সমন্বয়হীনতায় বৃথা যায় সব।

এতেই বোঝা যাচ্ছে, আমাদের শ্রমিকদের অবস্থা কতটা শোচনীয়। কিন্তু মে দিবস যায়, মে দিবস আসে। শ্রমিকদের ভাগ্য আর পরিবর্তন হয় না। ফলে পালনের জন্য মে দিবস পালন না হোক। এর মুখ্য উদ্দেশ্যই হোক শ্রমিকের অধিকার আদায় ও শ্রমিকের নিরাপত্তা। আট ঘণ্টার অধিক কাজ নয়। এর বেশি কাজ করলে ন্যায্য মজুরি দিতে হবে, সেটি সময়মতোই। বাংলাদেশে অসংখ্য শ্রমিক সংগঠন রয়েছে। শ্রমিকদের স্বার্থে তাদের আরও বেশি অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। শ্রমিকদের সব দাবি মালিকপক্ষ বা সরকারের কাছে তারা তুলে ধরতে পারে। তাতে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের দূরত্ব অনেকখানি লাঘব হবে। শ্রম আইনগুলো কঠোরতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই সঙ্গে তৈরি করতে হবে শ্রমিকবান্ধব আইন, যা শ্রমিকদের স্বার্থে কথা বলবে। এর মাধ্যমে গড়ে উঠবে একটি বৈষম্যহীন শ্রমিক বান্ধব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের অর্থনীতি।

লেখকঃ খাইরুল মামুন মিন্টু, আইন বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র

Sunday, April 28, 2024

২৪ এপ্রিল পোশাক শিল্পের ইতিহাসে ট্র্যাজেডির এক দিন

 

২৪ এপ্রিল ২০১৩, বাংলাদেশের ঢাকার সাভার রানাপ্লাজায় গার্মেন্ট মালিকদের অবহেলায় ১১৩৯ জন শ্রমিক নিহত হয়। আহত হয় ২৫০০ জন শ্রমিক। যা বিশ্বের ইতিহাসে ৩য় বৃহত্তম শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। রানা প্লাজা আট তলা বাণিজ্যিক এ ভবনে পাঁচটি পোশাক কারখানা ছিল। নিউওয়েভ বটমস লিমিটেড, নিউওয়েভ স্টাইল লিমিটেড, ফ্যানটম অ্যাপারেলস লিমিটেড, ফ্যানটম ট্যাকের লিমিটেড, ইথারটেক্সে লিমিটেড, এই পাঁচটি গার্মেন্টস কারখানায় প্রায় ৫০০০ এর মত শ্রমিক কাজ করত। কারখানাগুলিতে বেনেটন, জারা, দ্য চিলড্রেনস প্লেস, এল কর্টে ইঙ্গলেস, জো ফ্রেশ, ম্যাঙ্গো, মাতালান, প্রাইমার্ক এবং ওয়ালমার্ট সহ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি করতো।

২৪ এপ্রিল সকাল ৮.৪৫ মিনিট। হঠাৎ ধ্বংস্তুপে পরিণত হয় সাভারের রানা প্লাজা। সাধারণ জনগণ, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধারকাজ চালায়। ভবনটিতে পোশাক কারখানা, একটি ব্যাংক এবং একাধিক অন্যান্য দোকান ছিল, সকালে ব্যস্ত সময়ে এই ধসের ঘটনাটি ঘটে। ভবনটিতে ফাটল থাকার কারণে ভবন না ব্যবহারের সতর্কবার্তা থাকলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছিল। ২৩ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে ফাটল নিশ্চিত হওয়ার পর শ্রমিকদের ভবন ছেড়ে চলে যেতে বলা হয় তা সত্ত্বেও, গার্মেন্ট শ্রমিকদের পরের দিন ২৪ এপ্রিল শ্রমিকদের কাজে ফিরতে বলা হয়। এদিন ধসে পড়ে সাভারের রানা প্লাজা। বাংলাদেশের পোশাক খাতের দুর্বলতা আর অব্যবস্থাপনার প্রতীক হিসেবে বিধ্বস্ত রানা প্লাজা বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করে। ২৪ এপ্রিল ২০১৩ পোশাক শিল্পের ইতিহাসে ট্র্যাজেডির এক দিন। এরপর পোশাক খাতের সংস্কারে আইএলও’র নেতৃত্বে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায় একোর্ড, এলায়েন্স। শুরু হয় সংস্কার কাজ। প্রাথমিকভাবে সাড়ে তিন হাজার কারখানাকে সংস্কার কর্সসূচির আওতায় আনা হয়। বর্তমানে শক্ত অবস্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক খাত।

ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারগুলোকে এতো বছরেও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি। আহতদের পুনর্বাসন হয়নি। তাদের বেশিরভাগ শ্রমিকরা কাজে ফিরতে না পারায় অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাই অবিলম্বে, মর্যাদাপূর্ণ মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে যৌথ নিয়োগকর্তার দায়বদ্ধতা, রানা প্লাজার শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও সুচিকিৎসা, রানা প্লাজায় শ্রমিক হত্যাকান্ডে গার্মেন্ট ও ভবন মালিকসহ দায়ীদের বিচারে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এবং ২৪ এপ্রিল গার্মেন্ট শিল্পে সাধারণ ছুটি ঘোষণা, রানা প্লাজার জায়গা অধিগ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকদের জন্য পেনশন স্কিম চালু ও শ্রমিকদের স্মরণে স্থায়ী বেদী নির্মান করতে হবে।

লেখকঃ খাইরুল মামুন মিন্টু, আইন বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র

Tuesday, August 1, 2023

খুলনায় নারী ফুটবলারদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ এবং অবিলম্বে নৃশংস ঘটনায় জড়িত সকলকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।

 

খুলনা জেলার বটিয়াঘাটায় বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলের ফুটবলার সাদিয়া নাসরিন, মঙ্গলী বাগচী এবং হাজেরা খাতুনের উপর  নৃশংস হামলা করা এবং তাদের পরিবারকে অপদস্থ করায় ক্ষোভ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি ।

স্বাধীনতার ৫২ বছর পরও স্বাধীন সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রে নারী ফুটবলারদের উপর এই ধরনের নারী বিদ্বেষী মৌলবাদী আক্রমণ বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। আমি মনে করি, এধরণের সহিংস ঘটনা নারীর সমানাধিকার বিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী, নারী মানবাধিকারের চরমভাবে লংঘন।

প্রতিনিয়ত লক্ষ্য করি যে, আমাদের দেশের নারী ফুটবলারসহ নারী খেলোয়াড়রা দেশের জন্য অনেক সম্মান বয়ে আনলেও নারী হিসেবে তাদের প্রতি মজুরী বৈষম্যসহ অনেক ক্ষেত্রেই বৈষম্য ও বঞ্চিত করা হয় এবং যথাপোযুক্ত স্বীকৃতি প্রদান করা হয় না, এতদ্বসত্বেও  এই নারী ফুটবলারসহ সকল নারী খেলোয়াড়রা  অনেক বাধাবিপত্তি মোকাবিলা করে তাদের খেলাধুলা চালিয়ে যাচ্ছেন ।

এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের  শুধু মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাসহ সকল ধরনের নারী বিদ্বেষী মৌলবাদী কর্মকান্ড প্রতিরোধ, এবং এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তিরোধে সরকার এবং প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে যারা মানবাধিকারের বিভিন্ন ইস্যূ নিয়ে ধর্না ধরেন তাদের প্রতি আহবান নারী খেলোয়াড়দের প্রতি মৌলবাদী , ধর্মান্ধ নারী বিদ্বেষী গোষ্ঠীর এধরণের ঘটনাকেও মানবাধিকার লঙ্ঘণ হিসেবে বিবেচনা করবেন। নাগরিক সমাজের প্রতি আহবান প্রতিটি পাড়া মহল্লায় নারী বিদ্বেষী মৌলবাদী কর্মকান্ড প্রতিরোধে এবং নারীদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহনের জন্যে সুস্থ পরিবেশ তৈরিতে এগিয়ে আসুন।

Thursday, July 27, 2023

সরকার ও বিজিএমইএ এর ষড়যন্ত্রের শিকার চৈতী গ্রুপের তিনটি বেসিক ইউনিয়ন

 

বাংলাদেশে গার্মেন্ট শ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরী ঘোষণা হয়েছে ২০১৮ সালে। গত কয়েক বছরে জিনিসপত্রের দাম, বাড়িভাড়া কয়েক গুণ বেড়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যমান ন্যূনতম মজুরি (আট হাজার টাকা) দিয়ে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের পক্ষে কোনোভাবে জীবন ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। মজুরী ঘোষণার তিন বছর পর জিনিষ পত্রের মূল্য বৃদ্ধির সাথে সমন্বয় করে মজুরী বৃদ্ধির আইন থাকলেও তা করা হয়নি। পাশাপাশি মহাঘ্য ভাতা-রেশনিং ব্যবস্থা চালুর কথা থাকলেও তাও করা হয়নি। যার কারণে শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরীর দাবীতে আন্দোলন করছে। এই আন্দলনে প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড কেন্দ্র এর অন্তর্ভুক্ত বেসিক ইউনিয়ন গুলো তার মধ্য অন্যতম চৈতী গ্রুপের তিনটি বেসিক ইউনিয়ন। উত্তরার দক্ষিণখান ও উত্তরখান এলাকায় যে সব গার্মেন্ট কারখানা আছে তার সব গুলোতে শ্রমিকদের অধিকার বা আইনের বাস্তবায়ন নেই বললেই চলে। কারখানা মালিকদের খেয়াল খুশি মত কারখানা চালান। নারী শ্রমিকদের মাতৃত্ব কালীন ছুটি, অর্জিত ছুটি, সার্ভিস বেনিফিট থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। শ্রমিকদের কর্মঘন্টা ঠিক ঠিকানা নেই। ১২ ঘন্টা থেকে ১৬ ঘন্টা কাজ করতে হয়।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড কেন্দ্রের উদ্যোগে চৈতী গ্রুপের তিনটি, এ্যাচিভ ফ্যাশন লিমিটে একটি ও ইন্ট্রাকো ফ্যাশন ও ডিজাইন লিমিটে দুটি বেসিক ইউনিয়ন গঠনের পর কিছুটা হলেও কারখানা মালিকদের শ্রম আইন বাস্তবায়ন করে কারখানা চালাতে হচ্ছে। তাই বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড কেন্দ্র এর অন্তর্ভুক্ত বেসিক ইউনিয়ন গুলো ধ্বংস করার জন্য সরকার ও বিজিএমইএ এর ষড়যন্ত্র করে আসছে। সম্প্রতিক সময়য়ে এ্যাচিভ ফ্যাশন লিমিটে একটি ও ইন্ট্রাকো ফ্যাশন ও ডিজাইন লিমিটে দুটি বেসিক ইউনিয়ন থাকায় ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে শ্রমিকদের চাকুরী চ্যুত করা হয়েছে।

যে সব অজুহাতে গার্মেন্ট মালিকরা শ্রমিকদের চাকুরী চ্যুত করা হয়েছে তা সঠিক না, তারা বলেছে করোনা ভাইরাস ও ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে অর্ডার বাতিল হয়েছে। বাস্তবে উল্টা বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪ হাজার ৬৯৯ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। তার মধ্যে নতুন বাজারে গিয়েছে ৮৩৭ কোটি ডলারের পোশাক। এই রপ্তানি গত ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় ৩১ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি। ওই বছরে রপ্তানি হয়েছিল ৬৩৭ কোটি ডলারের পোশাক। তার আগের বছর নতুন বাজারে ৫০৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়। অথচ মালিকরা মিথ্যা বলে যাচ্ছেন।

কারখানায় সক্রিয় বেসিক ইউনিয়ন থাকার কারণে সরকার ও বিজিএমইএ মনে করছে এই ইউনিয়ন এর শ্রমিকরা শ্রমিকদের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে তাই তাদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য এই ধরনে ষড়যন্ত্র করছেন। যেমন করে যড়যন্ত্র করে এ্যাচিভ ফ্যাশন লিমিটে একটি ও ইন্ট্রাকো ফ্যাশন ও ডিজাইন লিমিটে দুটি বেসিক ইউনিয়ন থাকায় ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে শ্রমিকদের চাকুরী চ্যুত করা হয়েছে ঠিক একি ভাবে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড কেন্দ্র এর অন্তর্ভুক্ত বেসিক ইউনিয়ন এর কারখানা, ৪৩ চালাবন, আজমপুর, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ অবস্থিত আশিক জিন্স এ্যাপারেলস লিমিটেড, আশিক ড্রেস ডিজাইন লিমিটেড, নাইস এ্যাপারেলস ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড কারখানা গত ২২ জুলাই ২০২৩ ইং তারিখ থেকে শ্রম আইনের ২০০৬ এর ১৩ (১) ধারা অবৈধ ব্যবহার করে এক নোটিশের মাধ্যমে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

কারখানার মালিক পক্ষ বেসিক ইউনিয়ন ধ্বংস করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে মালিক পক্ষের নির্দেশে উক্ত কারখানার তিনটি বেসিক ইউনিয়ন এর সভাপতি-সাধারন সম্পাদক সহ নেতা কর্মীদের উপর বিভিন্ন সময় মিথ্যা মামলা ও বারবার হামলা করা হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত ভাবে জানিয়েছে কিন্তু কোন সমাধান পাইনি।

আপনারা সবাই অবগত আছেন এর আগে, গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২২ ইং তারিখ কারখানা ছুটির পর কারখানার গেইটে মালিক পক্ষের নির্দেশে আশিক ড্রেস ডিজাইন লিমিটেড শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন এর সভাপতি কামরুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন সবুজ মিয়া এবং আশিক জিন্স এ্যাপারেলস লিমিটেড শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়ার এর উপর হামলা হয়, তাদেরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সর্বশেষ গত ১৬ জুলাই ২০২৩ নাইস এ্যাপারেলস ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়ন এর সভাপতি সফিকুল ইসলাম দুপুরের খাবার বিরতি শেষ করে কারখানায় প্রবেশের সময় কারখানার গেইটে মালিক পক্ষের নির্দেশে সফিকুল ইসলাম এর উপর হামলা হয়, সফিকুল ইসলামকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শ্রমিকরা বিভিন্ন দপ্তরে বারবার লিখিত ভাবে জানানো হলেও কোন প্রতিকার পাইনি বরং ইউনিয়নের নেতা কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং শ্রমিকদের উপর সন্ত্রাসী হামলা করা হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার না করে গত ২১ জুলাই ২০২৩ ইং তারিখ গভীর রাতে আশিক ড্রেস ডিজাইন লিমিটেড শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন এর সভাপতি কামরুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক আলমগির হোসেন সবুজ মিয়া ও ২২ জুলাই ২০২৩ ইং তারিখ গভীর রাতে শ্রমিকনেতা বিল্লাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকরা বর্তমানে আতঙ্কে জীবন যাপন করছে।

অবিলম্বে আশিক ড্রেস ডিজাইন লিমিটেড শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন এর সভাপতি কামরুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক আলমগির হোসেন সবুজ মিয়া ও শ্রমিকনেতা বিল্লাল হোসেনকে মুক্তি শ্রম আইনের ২০০৬ এর ১৩ (১) ধারা অবৈধ নোটিশ প্রত্যাহার করে আশিক জিন্স এ্যাপারেলস লিমিটেড, আশিক ড্রেস ডিজাইন লিমিটেড, নাইস এ্যাপারেলস ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড বন্ধ কারখানা চালু ও শ্রমিকদের উপর হামলা-মামলা-গ্রেফতার বন্ধ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করার জোর দাবী জানায়।

Monday, June 26, 2023

শ্রমিকনেতা শহিদুল ইসলামকে হত্যা করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির আন্দোলন বন্ধ করার চেষ্টা

 

গাজীপুরের সাতাশ রোডে অবস্থিত প্রিন্স জ্যাকার্ড সোয়েটার লিমিটেড কারখানার প্রায় ২ হাজার ৫ শত শ্রমিক গত মে মাসের বেতন ও ঈদের বোনাস এর দাবীতে আন্দোলন করছিল। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ২৫ জুন এর মধ্যে সকল শ্রমিকদের ঈদ বোনাস-জুন মাসের ১৫ দিনের বেতন সহ সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করার কথা। কিন্তু প্রিন্স জ্যাকার্ড সোয়েটার লিমিটেড কারখানার মালিক শ্রমিকদের কোন পাওনা পরিশোধ করেননি। শ্রমিকরা কারখানার ভিতর বেতনের জন্য অবস্থান করে বিক্ষোভ করছিল। এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিল বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের গাজীপুর জেলার সভাপতি শ্রমিকনেতা শহিদুল ইসলাম। সন্ধ্যার পর প্রিন্স জ্যাকার্ড সোয়েটার লিমিটেড কারখানার মালিকপক্ষের নির্দেশে স্থানীয় ঝুট-টিফিন ব্যাবসায়ীর লোকজন  শ্রমিকনেতা ও শ্রমিকদের উপর হামলা করেন। হামলায় অনেকে আহত হয়। আহত অবস্থায় শ্রমিকনেতা শহিদুল ইসলামকে শ্রমিকরা উদ্ধার করে স্থানীয় তায়রুননেছা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে ভর্তি করেন। রাত্রি ১০ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শ্রমিকনেতা শহিদুল ইসলাম মারা যান।

২০১২ সালের ৪ এপ্রিল ডিইপিজেড এর শান্তা ডেনিম নামের একটি কারখানায় আন্দোলন চলছিল। কিছু শ্রমিকরা আমার সাথে এবং কিছু শ্রমিকরা আমিনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করছিল। আমি শ্রমিকদের পরামর্শ দিয়েছিলাম যে তারা যেন এক সংগঠনের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করেন। কারণ শ্রমিকরা দুই ভাগ হয়ে গেলে তাদের দাবী আদায় হবেনা। শ্রমিকদের সাথে মিটিং শেষ করে বিকালে আমিনুল ইসলাম এর সাথে শ্রমিদের দাবী বাস্তবায়নের বিষয়ে আমার কথা হয়েছিল। ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় আমাকে সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা শিমূলতলা একটি গোডাউনে ডেকে নিয়ে যায় এবং আমাকে এই আন্দোলন নিয়ে অনেক জিজ্ঞাবাদ করে। আমি ওখান থেকে বের হয়ে লাবনীর কাছে যানতে পারি আশুলিয়ার শ্রমিকনেতা আমিনুল ইসলামকে পুলিশের লোকেরা ধরে নিয়ে গিয়েছে এবং এক দিন পর ৬ এপ্রিল ২০১২ ইং তারিখ তার লাশ পাওয়া যায়। আমিনুল ইসলাম হত্যাকন্ডের বিচার এখনো হয়নি।

শ্রমিকনেতাদের হত্যাকন্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ ও হত্যাকান্ডে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

এমন হত্যাকান্ড ও শ্রমিকদের উপর হামলা বারবার হচ্ছে। কিন্তু বিচার কি হচ্ছে? আর বিচার হবেই বা কেন? বাংলাদেশে গার্মেন্টস সেক্টরে শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করে প্রায় ১০০টি শ্রমিক ফেডারেশন। সবাই কি এক জায়গায় দাঁড়াতে পেরেছে? পারেনি। অধিকাংশ শ্রমিক সংগঠন গুলো সরকার ও মালিকদের দালালে পরিণীত হয়েছে। সরকার ও মালিকদের দালালীর কারণে শ্রমিক সংগঠন গুলোর মধ্যে মতবিরোধ ও টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব। এই মতবিরোধকে পুঁজি করে বারবার শ্রমিক হত্যাকন্ড হচ্ছে এবং শ্রমিকদের উপর দমন নির্যাতন হচ্ছে। কারখানায় কারখানায় বে-আইনি ভাবে শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করা হচ্ছে। সাধারণ শ্রমিকরা আজ দিশেহারা অবস্থায়।

এমন একটা সময় শ্রমিকনেতা শহিদুল ইসলামকে হত্যা করা হলো যখন গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবী জোরদার হচ্ছে। শ্রমিকনেতা শহিদুল ইসলামকে হত্যা করে গার্মেন্টস মালিকরা কি বার্তা দিতে চাচ্ছে এটা শ্রমিনেতাদের বোঝা উচিৎ।

আমি মনে করি এখনো সময় আছে, শ্রমিক সংগঠন গুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে মালিকদের এই আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গার্মেন্টস শ্রমিকরা ন্যায্য ও জীবনযাপনের উপযোগী মজুরির দাবিতে ধারাবাহিকভাবে সভা, সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিলসহ ...