শ্রমিকদের অবিশ্বাস, নেতৃত্বের সংকট এবং শ্রমিক-মালিক-সরকারের মধ্যে আস্থাহীনতাই আন্দোলন অব্যাহত থাকার অন্যতম কারণ।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন এবং আগামী ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা দেওয়ার পরও শ্রমিকদের আন্দোলন থামছে না। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে, মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা এবং নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকরের আশ্বাস দেওয়ার পরও কেন শ্রমিকরা রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে প্রথমেই দেখতে হবে, মজুরি বোর্ড গঠনের সরকারি ঘোষণাকে শ্রমিকরা কতটা বিশ্বাস করেছেন এবং শ্রমিকদের মধ্যে এই ঘোষণা নিয়ে কতটা আস্থা তৈরি হয়েছে।
বাস্তবতা হচ্ছে, শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এখনো এই ঘোষণাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না। কারণ, অতীতের অভিজ্ঞতা, দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, মজুরি নির্ধারণে দীর্ঘসূত্রতা এবং শ্রমিকদের দাবির প্রতি মালিকপক্ষ ও সরকারের উদাসীনতা তাদের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস তৈরি করেছে। ফলে কেবল একটি ঘোষণা কিংবা আশ্বাস দিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলন থামানো সম্ভব হচ্ছে না। শ্রমিকরা এখন আর শুধু আশ্বাস শুনতে চান না, তারা ঘোষণার বাস্তবায়ন দেখতে চান।
শ্রমিকদের এই অবিশ্বাসের পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে, শ্রম আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে মজুরি বোর্ড গঠন না করা। শ্রমিকদের প্রত্যাশা ছিল, বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী গত এপ্রিল মাসের মধ্যেই গার্মেন্টস শিল্পের জন্য নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তা করা হয়নি। ফলে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন এবং ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে শুরু থেকেই সন্দেহ তৈরি হয়।
অতীতের অভিজ্ঞতাও শ্রমিকদের এই সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে গার্মেন্টস শিল্পের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও বোর্ড গঠনের প্রায় ৪৫ দিন পর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনা, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রস্তাব এবং দর-কষাকষি শেষে মজুরি বোর্ড গঠনের প্রায় সাত মাস পর নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করা হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শ্রমিকদের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, এবারও যদি একই ধরনের দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়, তাহলে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও বাস্তবায়ন কীভাবে সম্ভব হবে?
এখানে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩৯ ধারার ২ উপধারার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই ধারায় বলা হয়েছে, "মজুরি বোর্ড উক্তরূপ নির্দেশ প্রাপ্তির ছয় মাসের মধ্যে সরকারের নিকট উহার সুপারিশ পেশ করিবে: তবে শর্ত থাকে যে, মজুরি বোর্ডের অনুরোধে সরকার উক্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করিতে পারিবে।"
আইনের এই বিধানকে সামনে রেখে শ্রমিকদের মধ্যে আরও একটি সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাদের ধারণা, যদি ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য বোর্ড ছয় মাস সময় পাবে। সেই হিসাবে ২০২৭ সালের মে মাস পর্যন্ত সময় চলে যেতে পারে। এরপর সরকারের অনুমোদন, মজুরি কাঠামো ঘোষণা এবং বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও সময় লাগতে পারে। ফলে ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর হওয়ার যে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে, সেটি বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অবশেষে গত ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই ঘোষণার পরও শ্রমিকদের মধ্যে আস্থার সংকট কাটেনি। কারণ, শ্রমিকদের অভিজ্ঞতা হচ্ছে, আন্দোলনের চাপে অনেক সময় বিভিন্ন আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে সেগুলো বাস্তবায়ন হয় না। তাই শ্রমিকদের একটি বড় অংশ মনে করছে, তারা যদি এখন আন্দোলন থেকে সরে গিয়ে কারখানায় কাজে ফিরে যান, তাহলে হয়তো নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার বিষয়টি আবারও দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে পড়ে যাবে কিংবা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে না।
অর্থাৎ, বর্তমান আন্দোলন শুধু মজুরি বোর্ড গঠনের দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠা এবং শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা। শ্রমিকরা এখন কথার চেয়ে কাজের প্রমাণ দেখতে চান। তারা চান, ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকরের বিষয়ে সরকার ও মালিকপক্ষকে সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিতে হবে এবং সেই অনুযায়ী বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
শ্রমিক-মালিক-সরকারের মধ্যে আস্থাহীনতা দূর করতে কারখানাভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ, একটি প্রকৃত স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন শ্রমিকদের দাবিদাওয়া মালিকপক্ষের কাছে তুলে ধরতে পারে, শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকপক্ষের আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে পারে এবং যেকোনো বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও অনিশ্চয়তা দূর করতেও ট্রেড ইউনিয়নের ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, গার্মেন্টস শিল্পে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন থাকলেও এসব ইউনিয়নের ওপর শ্রমিকদের বড় একটি অংশের আস্থা নেই। এর অন্যতম কারণ, অনেক কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ ও স্বাধীন মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, কিছু ইউনিয়ন মালিকপক্ষের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব, পৃষ্ঠপোষকতা কিংবা অনুপ্রেরণায় গড়ে উঠেছে। ফলে এসব ইউনিয়ন শ্রমিকদের প্রকৃত স্বার্থ ও দাবিদাওয়া যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের পরিবর্তে মালিকপক্ষের স্বার্থ রক্ষায় বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। এর ফলে কারখানাভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়নগুলো শ্রমিকদের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রমিক-মালিকের মধ্যে কার্যকর সংলাপের ক্ষেত্রও তৈরি হচ্ছে না।
অন্যদিকে, গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, দাবি আদায় এবং সংগঠিত করার জন্য দেশে প্রায় ১০০টি খাতভিত্তিক শ্রমিক ফেডারেশন রয়েছে। কিন্তু এসব ফেডারেশনও এখন পর্যন্ত শ্রমিকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পারেনি। অনেক ক্ষেত্রে ফেডারেশনগুলোর নেতৃত্ব শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবন, কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা এবং তাদের প্রকৃত দাবিদাওয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের ভাষা, ক্ষোভ, প্রত্যাশা এবং আন্দোলনের কারণ যথাযথভাবে অনুধাবন করতে তারা ব্যর্থ হচ্ছে।
এর একটি বড় উদাহরণ হচ্ছে, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে এই দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। তাদের যুক্তি, বর্তমান বাজারদর, বাড়িভাড়া, খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় বিবেচনায় ১২ হাজার ৫০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি দিয়ে একটি শ্রমিক পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। অথচ শ্রমিকদের এই দাবির পক্ষে শ্রমিক সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। সংগঠনগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য, নেতৃত্বের বিভক্তি এবং সমন্বয়হীনতার কারণে শ্রমিকদের প্রত্যাশার প্রতিফলন একটি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে রূপ নিতে পারেনি।
ফলে শ্রমিকদের সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতৃত্বের দূরত্ব আরও বেড়েছে। শ্রমিকরা যখন নিজেদের জীবন-জীবিকা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে আন্দোলনে নামছেন, তখন অনেক সংগঠনের নেতারা তাদের আন্দোলন থেকে সরে এসে কারখানায় কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। কিন্তু শ্রমিকরা কেন আন্দোলন করছেন, তাদের মধ্যে কেন এত ক্ষোভ ও অনাস্থা তৈরি হয়েছে এবং কী কারণে তারা সংগঠনের নেতাদের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন না, তা বোঝার চেষ্টা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।
এখানেই বর্তমান শ্রমিক আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শ্রমিকরা এখন শুধু মালিকপক্ষ কিংবা সরকারের ওপরই আস্থা হারাননি, অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ও নেতৃত্বের প্রতিও আস্থা হারিয়েছেন। তারা মনে করছেন, তাদের জীবনযাত্রার বাস্তবতা, ন্যায্য মজুরির দাবি এবং কর্মক্ষেত্রের সমস্যাগুলো অনেক সংগঠনের নেতৃত্বের কাছে যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। তাই সংগঠনের নেতারা আন্দোলন বন্ধ করে কাজে ফেরার আহ্বান জানালেও শ্রমিকরা সেই আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন না। তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা, প্রয়োজন ও দাবির ভিত্তিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আরেকটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। শ্রমিকদের আন্দোলনকে শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা কিংবা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখলে সংকটের প্রকৃত কারণ আড়ালে থেকে যাবে। বরং কেন শ্রমিকরা বারবার রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছেন, কেন তারা সরকারি ঘোষণা বিশ্বাস করতে পারছেন না, কেন কারখানাভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন তাদের আস্থা অর্জন করতে পারছে না এবং কেন শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতৃত্বের সঙ্গে শ্রমিকদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে, সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে হবে।
এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রথমেই সরকারকে মজুরি বোর্ড গঠন ও নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে সুস্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করার ঘোষণা শুধু বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত কার্যকর করতে হবে। মজুরি বোর্ডের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং শ্রমিকপক্ষের প্রকৃত ও গ্রহণযোগ্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মালিকপক্ষকে নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নে সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, কারখানাভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে মালিকপক্ষের প্রভাবমুক্ত রেখে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও শ্রমিকদের কাছে জবাবদিহিমূলক সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শ্রমিকরা যেন নির্ভয়ে নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন এবং সেই প্রতিনিধিরা যেন শ্রমিকদের স্বার্থে মালিকপক্ষের সঙ্গে দর-কষাকষি করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয়ত, খাতভিত্তিক শ্রমিক ফেডারেশনগুলোকে নিজেদের মধ্যে বিভক্তি ও নেতৃত্বকেন্দ্রিক বিরোধ পরিহার করে শ্রমিকদের বাস্তব দাবি ও প্রত্যাশার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শ্রমিকদের আন্দোলনকে বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা না করে তাদের আন্দোলনের কারণ, ক্ষোভ ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিতে হবে। শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, কারখানাভিত্তিক মতবিনিময় এবং গণতান্ত্রিক সাংগঠনিক চর্চার মাধ্যমে নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
সবচেয়ে বড় কথা, শ্রমিকদের আস্থা অর্জন করতে হলে তাদের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। শুধু আন্দোলন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে কিংবা কাজে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে এই সংকটের সমাধান হবে না। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই আস্থার সম্পর্ক তৈরি করতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, গার্মেন্টস শ্রমিকদের বর্তমান আন্দোলন কেবল মজুরি বোর্ড গঠন কিংবা নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার বিষয় নয়; এটি মূলত শ্রমিকদের আস্থা, অধিকার, প্রতিনিধিত্ব এবং ন্যায্যতার সংকটের বহিঃপ্রকাশ। শ্রমিকরা আর শুধু প্রতিশ্রুতি শুনতে চান না, তারা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চান। তাদের কাছে ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা তখনই বিশ্বাসযোগ্য হবে, যখন তারা এর বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পাবেন। তাই শ্রমিকদের আন্দোলন থামাতে হলে আন্দোলন দমনের পথ নয়, বরং শ্রমিকদের আস্থাহীনতার কারণগুলো দূর করে তাদের ন্যায্য দাবির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, শ্রমিকদের আস্থা ছাড়া শিল্পে স্থিতিশীলতা, উৎপাদনে স্বাভাবিক পরিবেশ কিংবা শ্রমিক-মালিকের সুসম্পর্ক কোনোটিই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
লিখেছেনঃ খাইরুল মামুন মিন্টু, ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী।






