Followers

Thursday, January 15, 2026

নিজস্ব জগৎ

 


নিজস্ব জগৎ

প্রতিটি মানুষেরই একটি নিজস্ব জগৎ থাকে
যেখানে ঢোকার চাবি
কারও হাতে সহজে তুলে দেওয়া হয় না।
সে জগৎ একান্ত, নীরব,
নিজের মতো করে গড়া।

তোমারও আছে তেমনই এক জগৎ,
হয়তো সেখানে
আমার কোনো ঠিকানা নেই,
আমার নাম উচ্চারিত হয় না
দৈনন্দিন প্রার্থনায়।

কিন্তু আমার যে নিজস্ব জগৎ
সে জগতে কেবল তুমি।
দিনের আলো, রাতের নিঃশব্দতা,
সব কিছুর মাঝখানে
একটাই মুখ।

তাই আমি দূরে থাকি
তোমার সেই নিজস্ব জগৎ থেকে,
জোর করে ঢুকে পড়ার অধিকার
আমি চাইনি কখনো।

যেদিন তুমি মন থেকে ডাকবে,
নিঃশব্দ কোনো মুহূর্তে,
নিজের অজান্তেই

সেদিন দেখবে,
আমি ঠিক সেখানেই।

কারণ আমি তো দূরে যাইনি,
আমি ছিলাম
সব সময়ই

ছায়ার মতো
নীরবে, অবিচল,
তোমার পাশেই।

KM Mintu

শ্রমিক সংগঠনে শ্রমিক নেতৃত্বের সংকট: প্রতিনিধিত্ব ও গণতন্ত্রের প্রশ্ন

 

বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস দীর্ঘ এবং সংগ্রামমুখর। এই ইতিহাসে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের পথে অসংখ্য আত্মত্যাগ ও লড়াই রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো আজ অধিকাংশ শ্রমিক সংগঠনেই প্রকৃত শ্রমিকদের নেতৃত্বে আসার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। সংগঠনের নামে শ্রমিক আন্দোলন পরিচালিত হলেও, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই সেই সংগঠনগুলো শ্রমিকদের দ্বারা নয়, বরং শ্রমিকদের “নামে” পরিচালিত হচ্ছে।

অধিকাংশ শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বড় একটি অংশ কখনো শ্রমিক ছিলেন না, কিংবা শ্রমিক জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা তাদের নেই। ফলে শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবনসংগ্রাম, কর্মস্থলের শোষণ, অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা ও বঞ্চনার বাস্তবতা তাদের কাছে গৌণ হয়ে পড়ে। যারা কখনো মজুরি বকেয়া থাকার যন্ত্রণা বোঝেননি, যাদের জীবন কাটেনি কারখানার গরমে, ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্রের পাশে কিংবা দীর্ঘ কর্মঘণ্টার চাপে তারা শ্রমিকদের প্রকৃত কণ্ঠস্বর কতটা ধারণ করতে পারেন, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অনেক সংগঠনে নেতৃত্বের পদগুলো কার্যত আজীবন পদে পরিণত হয়েছে। কিছু নেতা পৃথিবী থেকে বিদায় না নেওয়া পর্যন্ত পদ আঁকড়ে ধরে রাখেন। নিয়মিত সম্মেলন, নেতৃত্বের পরিবর্তন কিংবা গণতান্ত্রিক চর্চা সেখানে অনেক সময় কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। এর ফলে নতুন প্রজন্মের শ্রমিক নেতাদের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সংগঠনগুলো ক্রমেই স্থবির ও জনগণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিক সংগঠনগুলো পেশাদারিত্ব ও আদর্শিক সংগ্রামের বদলে ব্যক্তি স্বার্থ, ক্ষমতার রাজনীতি কিংবা দলীয় প্রভাবের অধীন হয়ে পড়ে। এতে করে যোগ্য, সচেতন ও সংগ্রামী শ্রমিকরা নেতৃত্বে উঠে আসার সুযোগ পান না। সংগঠন পরিণত হয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ব্যক্তিগত বলয়ে, যেখানে শ্রমিকদের মতামত ও অংশগ্রহণ গুরুত্ব হারায়।

এই নেতৃত্ব সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে। প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব না থাকায় শ্রমিকদের দাবি দুর্বল হয়ে পড়ে, আন্দোলন হারায় বিশ্বাসযোগ্যতা ও গতি। শ্রমিকরা সংগঠনের ওপর আস্থা হারাতে শুরু করেন, যা সামগ্রিকভাবে শ্রমিক আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

শ্রমিক সংগঠনের শক্তি আসে শ্রমিকদের থেকেই এই সত্য ভুলে গেলে চলবে না। সংগঠনের নেতৃত্বে শ্রমিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, নিয়মিত নেতৃত্ব পরিবর্তন, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং নতুন নেতৃত্বের বিকাশ নিশ্চিত করা ছাড়া শ্রমিক আন্দোলনের নবজাগরণ সম্ভব নয়। প্রকৃত শ্রমিক নেতৃত্ব ছাড়া শ্রমিক সংগঠন কেবল নামেই শ্রমিকের বাস্তবে নয়।

শ্রমিক আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হলে এখনই প্রয়োজন আত্মসমালোচনা ও সংস্কারের সাহসী উদ্যোগ। নেতৃত্বে শ্রমিকদের ফেরানোই হতে পারে শ্রমিক সংগঠনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও শক্তি পুনরুদ্ধারের প্রথম শর্ত।

KM Mintu

Tuesday, January 13, 2026

প্রস্থান

 


প্রস্থান

প্রস্থান
আমি এই জীবন নামের নাটকের মঞ্চ থেকে প্রস্থান নিতে চাই।
যে মঞ্চে আমার উপস্থিতি কিংবা অনুপস্থিতি
কারও সংলাপ বদলায় না,
আলো বদলায় না,
শেষ দৃশ্যেও আমার নাম আসে না।

এই মঞ্চে আমি ছিলাম
একজন নীরব অভিনেতা

যার কণ্ঠ ঢেকে গেছে করতালির শব্দে,
যার চোখের জলকে বলা হয়েছে অভিনয়ের অংশ।
আমার ব্যথা ছিল অপ্রয়োজনীয়,
আমার স্বপ্ন ছিল অতিরিক্ত।

যেখানে গুরুত্ব মাপা হয় ক্ষমতায়,
মানুষ চেনা হয় প্রয়োজনে

সেখানে একজন গুরুত্বহীন অভিনেতার
আর কী প্রয়োজন থাকতে পারে?

তাই ক্লান্ত আমি।
সংলাপ বলতে বলতে ক্লান্ত,
নিজেকে প্রমাণ করতে করতে ক্লান্ত,
ভিড়ের মাঝেও অদৃশ্য হয়ে থাকতে থাকতে ক্লান্ত।

এই প্রস্থান কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়,
এ এক দীর্ঘ নীরবতার ফল।
এ মঞ্চ ছাড়ার মানে হারিয়ে যাওয়া নয়

বরং নিজের ভেতরে ফিরে যাওয়া,
যেখানে এখনো
আমার অস্তিত্বের কিছু মূল্য আছে।

আজ আমি করতালি চাই না,
চাই না আলো।
শুধু একটু নীরবতা চাই

যেখানে আমি আবার মানুষ হতে পারি,
অভিনেতা নয়।

KM Mintu

ইরান: পতনের দ্বারপ্রান্তে নয়, বরং ‘গ্রে সিকিউরিটি’ কৌশলের কেন্দ্রে

 

পশ্চিমা রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের আলোচনায় ইরানের শাসনব্যবস্থা প্রায়শই এমনভাবে উপস্থাপিত হয়, যেন দেশটি অবশ্যম্ভাবীভাবে পতনের পথে হাঁটছে। কিন্তু এই মূল্যায়নের সঙ্গে ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও কৌশলগত মহলের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণগুলো মিলিয়ে পড়লে এক ভিন্ন ও অধিক জটিল বাস্তবতা সামনে আসে। বাস্তবতা হলোইরান বর্তমানে পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়, আবার তাৎক্ষণিক পতনের দিকেও এগোচ্ছে না। এই মধ্যবর্তী অবস্থা তেহরানকে একটি নিরাপত্তা ধূসর অঞ্চল বা গ্রে সিকিউরিটি জোন’-এ নিয়ে এসেছে, যা ইসরায়েলের মতো প্রতিপক্ষের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে।

এই ধূসর অবস্থাই ইরানের জন্য এক অনন্য কৌশলগত সম্পদে পরিণত হয়েছে। সেই সম্পদের নামসময়

তেল আবিবের চোখে হুমকি: কেন সময়ই ইরানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র

ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ (INSS) তাদের ২০২৫ সালের বিশ্লেষণে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, ইরানকে যেন আগের অবস্থায়বিশেষ করে পারমাণবিক সক্ষমতার ক্ষেত্রেফিরে যেতে না দেওয়া হয়। ইসরায়েলের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি হলো বর্তমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা, যেখানে কোনো কার্যকর চুক্তি নেই, আবার পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাতও নেই।

এই শূন্যতার সুযোগে ইরান আন্তর্জাতিক নজরদারি দুর্বল হওয়ার সুবিধা নিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন, সরবরাহ লাইন মেরামত, উন্নত সেন্ট্রিফিউজ স্থাপন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার পুনরায় সাজানোর মতো কাজগুলো এই সময়েই সবচেয়ে সহজে করা যায়।

প্রচলিত সামরিক যুক্তি অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে আগাম আঘাত হানা বা সর্বোচ্চ সামরিক চাপ প্রয়োগ করাই যুক্তিযুক্ত। কিন্তু ইরানের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা সেই হিসাবকে জটিল করে তুলেছে।

অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও শাসনব্যবস্থার বাস্তব শক্তি

আইএনএসএসের নিজস্ব বিশ্লেষণেই স্বীকার করা হয়েছে যে, ইরানের শাসনব্যবস্থার সামাজিক বৈধতা আগের তুলনায় ক্ষয়প্রাপ্ত হলেও ক্ষমতার কাঠামো এখনো অটুটনিরাপত্তা বাহিনী, বিপ্লবী গার্ড (IRGC), বিচারব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ এখনো শাসকগোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত।

ইসরায়েলের জ্যেষ্ঠ সামরিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ইরানের রাজপথের অস্থিরতা paradoxically একধরনের মানসিক প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করেছে। প্রখ্যাত বিশ্লেষক রন বেন ইশাইয়ের মতে, বিক্ষোভগুলো বিচ্ছিন্ন, নেতৃত্বহীন এবং তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা উল্টে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে না। ফলে কোনো বড় বিদেশি হামলা হলে এই বিক্ষোভগুলো সরকারবিরোধী শক্তি হিসেবে নয়, বরং “জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি” হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।

বিদেশি হামলা ও জাতীয়তাবাদ: ইতিহাসের সতর্ক সংকেত

ইরানইরাক যুদ্ধের (১৯৮০৮৮) অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, বড় ধরনের বিদেশি আগ্রাসন ইরানের ভেতরে জাতীয়তাবাদী আবেগকে তীব্রভাবে উসকে দিতে পারে। দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্টসহ একাধিক কৌশলগত সাময়িকী সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলি বা পশ্চিমা সামরিক হামলা বিক্ষোভের গতিপথ উল্টে দিতে পারে।

বিভাজন আরও গভীর হওয়ার বদলে, সরকার তখন সব ধরনের ভিন্নমতকে “বিদেশি ষড়যন্ত্র” হিসেবে চিহ্নিত করে দমন করার রাজনৈতিক ও নৈতিক অজুহাত পাবে। এতে শাসনব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার বদলে সাময়িকভাবে আরও সংহত হতে পারেযা ইসরায়েলের কৌশলগত লক্ষ্যবিরোধী।

ইসরায়েলের কৌশলগত দোটানা

এই বাস্তবতায় তেল আবিব এক গভীর কৌশলগত সংকটে আটকে গেছে।

  • হামলা করলে: ইরানের শাসনব্যবস্থাকে অভ্যন্তরীণ সংকট সামাল দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
  • হামলা না করলে: ইরান সময় পায়পুনর্গঠন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব শক্ত করার জন্য।

এই দ্বিধাই ইরানের সবচেয়ে বড় সাফল্য। তেহরান কার্যত নিষ্ক্রিয়তার ভার নিজের কাঁধ থেকে সরিয়ে ইসরায়েলের কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছে। আগে যেখানে ইসরায়েল ছিল সর্বক্ষণ উদ্যোগী ও আক্রমণাত্মক অবস্থানে, এখন তারা পড়ে আছে কৌশলগত বিভ্রান্তিতে।

অস্থিরতা, বয়ান ও আগাম বৈধতা নির্মাণ

ইরানি কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার জন্য মোসাদের ষড়যন্ত্রকে দায়ী করেন। এই বক্তব্যের একটি দ্বিমুখী কৌশলগত উদ্দেশ্য রয়েছে।

দেশের ভেতরে এটি বিক্ষোভকে অবৈধ ও বিদেশি প্রভাবিত বলে চিহ্নিত করে।

আন্তর্জাতিক পরিসরে এটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আগাম বা পাল্টা হামলার জন্য বয়ানগত বৈধতা তৈরি করে।

অস্থিরতাকে বাইরের আগ্রাসনের ফল হিসেবে উপস্থাপন করে তেহরান যেকোনো সরাসরি বা প্রক্সি আঘাতকে জাতীয় আত্মরক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে ন্যায্যতা দেওয়ার ভিত্তি গড়ে তোলে।

অসম পুনর্গঠন ও কৌশলগত ধৈর্য

আইএনএসএসের আঞ্চলিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান বর্তমানে অসম পুনর্গঠনের কৌশল অনুসরণ করছে। হিজবুল্লাহ ও অন্যান্য প্রক্সি শক্তি তুলনামূলকভাবে দুর্বল হলেও, তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার, ড্রোন সক্ষমতা এবং পারমাণবিক সীমারেখা বজায় রাখার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

কম তীব্রতার বিক্ষোভ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও গোয়েন্দা নজরদারিকে রাস্তায় ব্যস্ত রাখে। সেই আড়ালে ইরানি প্রযুক্তিবিদেরা সরবরাহ চেইন পুনর্গঠন, সেন্ট্রিফিউজ উন্নয়ন এবং রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করার কাজ চালিয়ে যানযা সর্বাত্মক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রায় অসম্ভব হতো।

যুদ্ধ নয়, ঝুঁকির ভারসাম্য

তেল আবিব ও ওয়াশিংটনে প্রস্তুত কৌশলগত নথিগুলো পর্যালোচনা করলে একটি সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হয়ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ এখন আর শুধু শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা নয়, বরং ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সমীকরণে সময় তৈরির একটি কার্যকর উপাদান

ইসরায়েল ইরানের সক্ষমতা ক্ষয় করতে চায়, কিন্তু সামরিক পদক্ষেপের অনিচ্ছাকৃত পরিণতি তাদের থামিয়ে রাখছে। এই সুযোগ বুঝেই তেহরান ধূসর এই পরিসরকে ব্যবহার করছেশুধু টিকে থাকার জন্য নয়, বরং সংঘাতের মনস্তাত্ত্বিক গতিপথ উল্টে দেওয়ার জন্য।

ফলে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ এখন আর নিশ্চিত ভবিষ্যৎ নয়; এটি এমন এক সম্ভাবনায় রূপ নিয়েছে, যেখানে ঝুঁকির ভার ইসরায়েলের পক্ষেই সবচেয়ে বেশি।

KM Mintu

Thursday, January 8, 2026

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও নারী প্রতিনিধিত্ব: প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা

 

বাংলাদেশে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঘিরে নির্বাচন কমিশন ও বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য একটি গভীর ও অস্বস্তিকর বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। দেশের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী হলেও সরাসরি সংসদ নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ এখনও ভয়াবহভাবে সীমিত।

নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ৩০০টি সংসদীয় আসনে এবার মোট ২,৫৬৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ১০৯ জনযা মোট প্রার্থীর মাত্র ৪.২৪ শতাংশ। এই ১০৯ জনের মধ্যে ৭২ জন দলীয় মনোনয়নে এবং ৩৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এই পরিসংখ্যান শুধু হতাশাজনকই নয়, এটি রাজনৈতিক দলগুলোর নারী নেতৃত্ব নিয়ে বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গির স্পষ্ট প্রতিফলন।

রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন ও নারীর অবস্থা

প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে তাকালে চিত্র আরও উদ্বেগজনক হয়। বিএনপি ও জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) থেকে ২৮০-এর বেশি প্রার্থী দেওয়ার পরও নারী প্রার্থী মাত্র ৯ জন করে। বামধারার কিছু দল তুলনামূলকভাবে কিছুটা অগ্রগামী হলেও সংখ্যার বিচারে সেটিও খুবই সীমিত।

সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলোপ্রায় ৩০টি রাজনৈতিক দল এবারের নির্বাচনে একজন নারী প্রার্থীও দেয়নি। এর মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এলডিপি, খেলাফত মজলিসের মতো পরিচিত দল।

অথচ এসব ইসলামী রাজনৈতিক দল তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রচারে প্রায়ই “নারীর সম্মান”, “নারীর অধিকার”, “নৈতিক সমাজ” ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু বাস্তবে নির্বাচনের মাঠে তারা নারীদের নেতৃত্বে দেখতে রাজি নয়এটাই তাদের প্রকৃত অবস্থান প্রকাশ করে।

প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার দ্বন্দ্ব

যে রাজনৈতিক শক্তি নারীদের নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না, সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় নারীদের জায়গা দিতে চায় না, তারা ক্ষমতায় গেলে নারীর অধিকার রক্ষায় কতটা আন্তরিক হবেএই প্রশ্ন এখন আর তাত্ত্বিক নয়, বরং বাস্তব ও জরুরি।

সংসদে সরাসরি প্রতিনিধিত্ব মানে শুধু একটি আসন নয়; এটি নীতি নির্ধারণ, আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ। যখন কোনো দল ধারাবাহিকভাবে নারীদের এই জায়গা থেকে বাদ দেয়, তখন স্পষ্ট হয়তারা নারীদের সমান নাগরিক হিসেবে নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত একটি গোষ্ঠী হিসেবেই দেখতে চায়।

বিশেষ করে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শ্রম অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নে নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদি এমন রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় আসে বা ক্ষমতার কাছাকাছি যায় যারা নেতৃত্বে নারীর উপস্থিতিকে স্বীকারই করে না, তাহলে প্রশ্ন উঠবেইবাংলাদেশে নারীদের কর্মস্থানের স্বাধীনতা কী হবে?

শিক্ষা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর ভূমিকা কতটা সংকুচিত হবে?

রাষ্ট্র কি নারীর অধিকারের নিশ্চয়তা দিতে পারবে?

জনগণের বোঝার সময় এখন

এই নির্বাচন শুধু দল বদলের নির্বাচন নয়; এটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গির নির্বাচন। ভোটারদেরবিশেষ করে নারী ভোটারদেরবোঝা উচিত, কোন দল নারীদের কেবল ভোটব্যাংক হিসেবে দেখে আর কোন দল নারীদের নেতৃত্বে বিশ্বাস করে।

নারীর অধিকার কোনো দয়া নয়, এটি সাংবিধানিক অধিকার। আর সেই অধিকার রক্ষার প্রথম ধাপ হলো রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব। যে দল সেই জায়গায় নারীদের স্থান দিতে ব্যর্থ, তাদের প্রতিশ্রুতি যতই আকর্ষণীয় হোক না কেনবাস্তবে তা নারীবান্ধব নয়।

এই নির্বাচনে নারী প্রার্থীর স্বল্পতা আমাদের সামনে একটি আয়না ধরেছে। এখন সিদ্ধান্ত জনগণেরএই আয়নায় দেখা বাস্তবতা আমরা উপেক্ষা করব, নাকি ভবিষ্যতের জন্য সচেতন নির্বাচন করব।

লিখেছেনঃ খাইরুল মামুন মিন্টু, রাজনৈতিক কর্মী ও শ্রমিকনেতা।

Wednesday, January 7, 2026

তবুও আমি তোমাকে নিয়েই স্বপ্ন দেখি

 

আমার জীবনটা যেন এক রহস্যময় ধারায় বয়ে চলেছে। অন্য অনেক পরিবারের মতো আমাদের পরিবারে দারিদ্র্যের ছায়া ছিল না, তবু আমার পড়াশোনা এগোয়নি। কেন এগোয়নিতা আমার অজানা নয়। বাবামা না থাকায় পরিবারের অন্য সদস্যদের তত্ত্বাবধানে বড় হওয়া, আর অল্প বয়স থেকেই পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়াই হয়তো তার প্রধান কারণ। তবে সত্যি বলতে কী, পড়াশোনার প্রতি যদি আমার ইচ্ছেটা আরও প্রবল হতো, তাহলে হয়তো সেই পথটাও তৈরি হয়ে যেত। এখানে হয়তো আমার নিজেরই কিছু গাফিলতি ছিলএই সত্য অস্বীকার করি না।

পারিবারিক নানা বাস্তবতায় মাত্র আঠারো বছর বয়সেই কাজের সন্ধানে আমাকে ঢাকা শহরে আসতে হয়েছিল। পড়াশোনার সার্টিফিকেট না থাকলেও জীবন আমাকে শিখিয়েছে বাস্তবতার কঠিন পাঠ। সেই পাঠেই ভর করে আজ পর্যন্ত আমি তুলনামূলকভাবে সফলভাবেই জীবনযাপন করে চলেছিএটাই আমার আত্মতৃপ্তি।

তবে জীবনের আরেকটি অধ্যায় আছে, যেটা বরাবরই নীরব। আমি আমার ভালোবাসার মানুষটিকে শুধু দূর থেকেই দেখেছি। তার কাছে যাওয়া, নিজের মনের কথাগুলো খুলে বলাসে সাহস কোনোদিনই হয়ে ওঠেনি। কেন পারিনি, তার উত্তর আজও খুঁজে পাই না। তবু এটুকু জানি, আমার ভেতরে প্রেম আছে বলেই হয়তো আমার জীবনটা সুন্দর। না পাওয়া প্রেম কষ্ট দেয়ভীষণ কষ্ট দেয়তবুও সেই কষ্টের মাঝেই এক অদ্ভুত সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে।

যে বয়সে গভীর প্রেম থাকার কথা ছিল, হয়তো তখন তা ছিল না। কিন্তু আজ, এই বয়সে এসে হঠাৎ করেই মনে হয়আমি যেন এক গভীর প্রেমে পড়ে গেছি। মনে হয়, কেউ একজন আমার ভরসার জায়গা হতে পারত, যার হাত ধরে আগামীর পথচলার স্বপ্নগুলো আরও রঙিন হয়ে উঠত। এই ভাবনাটুকুই মনকে আনন্দে ভরিয়ে দেয়।

হয়তো এসবই আমার কল্পনা। কিন্তু কল্পনাটাও যে কী অসম্ভব সুন্দর! জানি, বাস্তবে এর কিছুই হবে নাতবুও আমি তোমাকে নিয়েই স্বপ্ন দেখি। কারণ মানুষ তো শেষ পর্যন্ত বাঁচে স্বপ্ন নিয়েই। না পাওয়ার বেদনা বুকে নিয়েও, এই প্রেমের অনুভূতিটুকু সঙ্গে করে আগামীর পথে এগিয়ে চলাই আমার বেঁচে থাকার শক্তি।

KM Mintu

Tuesday, January 6, 2026

প্রতিষ্ঠানের মূল কারিগর: অন্তরালে থাকা সেই একনিষ্ঠ প্রাণ

 

যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের প্রাণভোমরা হয় এমন একজন মানুষ, যার কাছে সেই প্রতিষ্ঠানটি কেবল জীবিকা বা দায়িত্ব নয়, বরং লালিত একটি স্বপ্ন।

একটি প্রতিষ্ঠান যখন সাফল্যের শিখরে পৌঁছায়, তখন বাইরের পৃথিবী হয়তো তার জাঁকজমক আর বড় বড় সংখ্যাগুলোই দেখে। কিন্তু সেই সাফল্যের পেছনে থাকে কারো একজনের নির্ঘুম রাত, অদম্য জেদ আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। একটি সংগঠনে শত শত কর্মী থাকতে পারে, কিন্তু সবার দায়বদ্ধতা বা মানসিক সংযোগ একরকম হয় না। অধিকাংশের কাছে প্রতিষ্ঠানটি হয়তো কেবল একটি কর্মস্থল, কিন্তু সেই 'বিশেষ একজনের' কাছে এটি তার অস্তিত্বের অংশ।

প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ছোট ছোট উন্নতি সেই মানুষটির চোখে আনন্দ অশ্রু আনে। তিনি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যকে নিজের ব্যক্তিগত জয় হিসেবে দেখেন। যখন সবাই কাজ শেষে ঘড়ি ধরে বাড়ি ফিরে যায়, সেই মানুষটি তখনও হয়তো ভাবছেন কীভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া যায়। তার কাছে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ মানে কেবল কিছু কাগুজে হিসাব নয়, বরং একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন।

সবাই যখন ব্যর্থতার দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিজের পাল্লা হালকা করতে ব্যস্ত থাকে, তখন সেই একজন মানুষই বুক পেতে সবটুকু ব্যর্থতা মেনে নেন। প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হলে বা কোনো লক্ষ্য অর্জিত না হলে তিনি যে বেদনা অনুভব করেন, তা অন্য কারোর পক্ষে উপলব্ধি করা কঠিন। সেই দুঃখ তাকে বিচলিত করে ঠিকই, কিন্তু দমাতে পারে না; বরং সেই ব্যর্থতা থেকেই তিনি ঘুরে দাঁড়ানোর রসদ খুঁজে নেন।

সবাই প্রতিষ্ঠানের প্রতি সমান দরদ বা মমতা অনুভব করবেএমনটা আশা করা হয়তো বাস্তবসম্মত নয়। অধিকাংশ মানুষই তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্বটুকুর বাইরে আর ভাবতে চান না। এখানেই সেই একজনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তাকেই সব ভালো-মন্দের দায়ভার নিতে হয়। সংকটের সময়ে যখন সবাই দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে, তখন সেই নিঃসঙ্গ নাবিকই শক্ত হাতে হাল ধরেন।

এই ধরণের মানুষরা প্রতিষ্ঠানের প্রতি যে ভালোবাসা দেখান, তা কোনো বেতন বা পদমর্যাদা দিয়ে কেনা সম্ভব নয়। এটি এক ধরণের আত্মিক টান। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ইট-পাথর আর প্রতিটি কর্মীর ভালো-মন্দের সাথে তিনি নিজেকে জড়িয়ে নেন। তার এই "মালিকানাসুলভ মানসিকতা" (Ownership Mindset) থেকেই জন্ম নেয় এমন এক নেতৃত্ব, যা একটি সাধারণ সংগঠনকে অসাধারণ উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

যেকোনো সফল প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসের পাতায় এমন একজন নিবেদিত মানুষের গল্প লুকিয়ে থাকে। তিনি হয়তো সবসময় সামনের সারিতে থাকেন না, কিন্তু তার নিঃশব্দ পরিশ্রম আর অকৃত্রিম ভালোবাসাই প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখে। সবার মমতা হয়তো সমান হয় না, কিন্তু সেই একজনের 'দরদ' ই প্রতিষ্ঠানের আসল শক্তি।

KM Mintu

নিজস্ব জগৎ

  নিজস্ব জগৎ প্রতিটি মানুষেরই একটি নিজস্ব জগৎ থাকে — যেখানে ঢোকার চাবি কারও হাতে সহজে তুলে দেওয়া হয় না। সে জগৎ একান্ত , নীরব , নিজের ম...