জলবায়ু পরিবর্তন আজ আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়; এটি বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম ভয়াবহ বাস্তবতা। বৈশ্বিক উষ্ণতা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, নদীভাঙন ও পরিবেশগত বিপর্যয় মানুষের জীবন ও জীবিকাকে প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে ফেলছে। এই সংকট মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানি—কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস—নির্ভর অর্থনীতি থেকে ধীরে ধীরে সৌর, বায়ু, জলবিদ্যুৎ, ভূ-তাপীয় ও বায়োমাসের মতো নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতিতে রূপান্তর এখন সময়ের দাবি।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তর শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস পরিবর্তনের বিষয় নয়। এটি একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত, সামাজিক ও নীতিগত পরিবর্তনের প্রক্রিয়া। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, টেকসই ও ভবিষ্যৎবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে পারে, আমদানিনির্ভরতা কমাতে পারে, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা করতে পারে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য এই রূপান্তরের গুরুত্ব আরও বেশি। সূর্যের আলো, বাতাস, পানি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উৎসকে কাজে লাগিয়ে দেশের নিজস্ব সম্পদ থেকে পরিচ্ছন্ন শক্তি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই পরিবর্তনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল কারা ভোগ করবে? আর এই পরিবর্তনের কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাদের দায়িত্ব কে নেবে?
জাস্ট ট্রানজিশনের মূল কথা হলো—জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং পরিবেশ রক্ষার জন্য অর্থনীতিতে যে কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন, সেই পরিবর্তনের পুরো বোঝা যেন শ্রমিক, নিম্নআয়ের মানুষ, স্থানীয় জনগোষ্ঠী বা দুর্বল সম্প্রদায়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়। একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া পরিবেশের জন্য ইতিবাচক হতে পারে; কিন্তু সেখানে কর্মরত শ্রমিক যদি পরদিন বেকার হয়ে যান, তার পরিবারের খাবার, সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা যদি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তাহলে সেই পরিবর্তনকে পুরোপুরি ন্যায়সংগত বলা যায় না।
একইভাবে তেলভিত্তিক শিল্প বন্ধ করা বা জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু সেই শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, বিকল্প কর্মসংস্থান, আয়-সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ জীবিকার নিশ্চয়তা না দিয়ে শুধু শিল্প বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই জাস্ট ট্রানজিশন হতে পারে না।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে শ্রমিকের অধিকার, সামাজিক সংলাপ, শোভন কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ পরিবেশ রক্ষা করতে হবে, কিন্তু শ্রমিককে ধ্বংস করে নয়; শিল্পকে সবুজ করতে হবে, কিন্তু শ্রমিকের জীবনকে অনিশ্চিত করে নয়।
দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে ‘গ্রিন ট্রানজিশন’ নিয়ে আলোচনা যতটা হচ্ছে, ‘জাস্ট ট্রানজিশন’ নিয়ে ততটা বাস্তব পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
সরকার শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশবান্ধব ও গ্রিন কারখানা নির্মাণে উৎসাহিত করছে। এটি নিঃসন্দেহে প্রয়োজনীয় ও ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু একটি কারখানাকে পরিবেশবান্ধব করতে যে অতিরিক্ত বিনিয়োগ প্রয়োজন, তার বড় অংশ যদি শিল্প মালিকদের ওপর পড়ে, তখন তারা সরকারের কাছে প্রণোদনা, ভর্তুকি, সহজ ঋণ ও অন্যান্য সুবিধা দাবি করেন। অর্থাৎ সবুজ অর্থনীতিতে রূপান্তরের জন্য শিল্প মালিকদের আর্থিক সহায়তার দাবি সামনে আসে।
রাষ্ট্রও অর্থনীতিকে সচল রাখা, বিনিয়োগ বাড়ানো, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা এবং শিল্প খাতকে সহায়তা করার জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করে। কিন্তু এই বিপুল অর্থনৈতিক সহায়তার আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার—শ্রমিক—কোথায়?
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের দিকে তাকালেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। একটি কারখানা বন্ধ হলে বা উৎপাদন কমে গেলে প্রথম আঘাতটি আসে শ্রমিকের ওপর। চাকরি হারান শ্রমিক। আয় বন্ধ হয়ে যায়। বাড়িভাড়া, খাবার, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা—সবকিছু অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অনেক শ্রমিক বছরের পর বছর একটি কারখানায় কাজ করেও এমন কোনো কার্যকর ভবিষ্যৎ তহবিল পান না, যেখান থেকে চাকরি হারানোর পর কয়েক মাস পরিবার চালাতে পারবেন।
এখানে প্রশ্ন ওঠে—একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখার জন্য যদি হাজার হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দেওয়া যায়, তাহলে চাকরি হারানো শ্রমিককে কয়েক মাস বেঁচে থাকার জন্য একটি বিশেষ সহায়তা দেওয়া যাবে না কেন?
শিল্পের জন্য প্রণোদনা থাকতে পারে, ব্যাংকের জন্য সহায়তা থাকতে পারে, উদ্যোক্তার জন্য সহজ ঋণ থাকতে পারে, গ্রিন প্রযুক্তির জন্য ভর্তুকি থাকতে পারে—কিন্তু শ্রমিকের জন্য কেন থাকবে না? এই প্রশ্নের উত্তর রাষ্ট্রকেই দিতে হবে।
কারণ শিল্পের প্রকৃত সম্পদ শুধু ভবন, যন্ত্রপাতি কিংবা মূলধন নয়; শিল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলো শ্রমিক। একজন শ্রমিক তার জীবনের সবচেয়ে উৎপাদনশীল সময়টি শিল্পকে দেন। তার শ্রমে পণ্য তৈরি হয়, রপ্তানি আয় আসে, মালিকের মুনাফা হয় এবং দেশের অর্থনীতি সচল থাকে। সেই শ্রমিক যখন শিল্পের সংকটের কারণে চাকরি হারান, তখন তার দায়িত্ব শুধু শ্রমিকের নিজের নয়—রাষ্ট্র, শিল্প মালিক এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষেরও।
আজ যদি বাংলাদেশের শিল্প খাতকে জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা থেকে নবায়নযোগ্য শক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় নিয়ে যেতে হয়, তাহলে একই সঙ্গে শ্রমিকদের জন্যও একটি ন্যায়সংগত রূপান্তর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
এই পরিকল্পনার প্রথম শর্ত হতে পারে—কোনো শিল্পের প্রযুক্তিগত বা পরিবেশগত রূপান্তরের কারণে শ্রমিক যেন হঠাৎ বেকার না হন। প্রয়োজন হলে তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনঃপ্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। একজন গার্মেন্টস শ্রমিককে শুধু ‘অদক্ষ শ্রমিক’ হিসেবে দেখলে চলবে না। বছরের পর বছর কাজ করতে করতে তিনি যে দক্ষতা অর্জন করেছেন, তাকে নতুন প্রযুক্তি ও নতুন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ দিতে হবে।
সোলার প্যানেল উৎপাদন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, বৈদ্যুতিক যানবাহন, ব্যাটারি, শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, পুনর্ব্যবহারযোগ্য শিল্প, সবুজ নির্মাণ এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থায় বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এই সম্ভাবনাকে বাস্তব কর্মসংস্থানে পরিণত করার জন্য রাষ্ট্রকে পরিকল্পিত উদ্যোগ নিতে হবে।
শুধু ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি’ তৈরি করলেই জাস্ট ট্রানজিশন হবে না। প্রশ্ন করতে হবে—সেই গ্রিন ফ্যাক্টরিতে কারা কাজ করবে? পুরোনো শিল্পের চাকরি হারানো শ্রমিকদের কতজন সেখানে পুনর্বাসিত হবে? তাদের কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে? প্রশিক্ষণ চলাকালে তাদের পরিবার কীভাবে চলবে? নতুন শিল্পে তাদের মজুরি কত হবে? তাদের শ্রমিক অধিকার কীভাবে নিশ্চিত হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া গ্রিন ট্রানজিশন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মজুরি। একজন শ্রমিক যদি সারাদিন কাজ করেও পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে না পারেন, তাহলে কোনো অর্থেই সেই কর্মসংস্থানকে টেকসই বলা যায় না। পরিবেশবান্ধব শিল্পের অর্থনীতিও শ্রমিকের জন্য ন্যায্য ও জীবনধারণযোগ্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে।
সবুজ অর্থনীতি যদি শুধু মালিকের জন্য নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করে এবং শ্রমিকের জন্য কম মজুরি, অনিশ্চিত চাকরি ও অস্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি করে, তাহলে সেটি প্রকৃত অর্থে ন্যায়সংগত রূপান্তর নয়।
তাই বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন একটি ‘জাস্ট ট্রানজিশন ফান্ড’ বা ন্যায়সংগত রূপান্তর তহবিল। এই তহবিলের অর্থ আসতে পারে রাষ্ট্রীয় বাজেট, শিল্প খাতের অবদান, আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন, উন্নত দেশগুলোর জলবায়ু সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উৎস থেকে।
এই তহবিল থেকে চাকরি হারানো শ্রমিককে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আয়-সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে পুনঃপ্রশিক্ষণ, নতুন কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক পরিবারের সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
বিশেষ করে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় উন্নত ও ধনী দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায়ের বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পায়ন ও দীর্ঘদিনের জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হয়েছে, তার বড় অংশ উন্নত দেশগুলোর ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের ওপর সবুজ রূপান্তরের আর্থিক বোঝা একতরফাভাবে চাপিয়ে দেওয়া ন্যায়সংগত নয়।
বাংলাদেশের উচিত আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন থেকে শ্রমিককেন্দ্রিক জাস্ট ট্রানজিশনের জন্য অর্থ দাবি করা। শুধু বাঁধ, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা অবকাঠামো নয়—জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জীবিকা হারানো এবং শিল্প রূপান্তরের কারণে চাকরি হারানো শ্রমিকদের জন্যও অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।
যদি শিল্প খাতকে গ্রিন করার জন্য প্রণোদনা দেওয়া হয়, তাহলে শ্রমিকের জন্য প্রণোদনা দিতে হবে। যদি বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, তাহলে চাকরি হারানো শ্রমিকের পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সহায়তা দিতে হবে। যদি গ্রিন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের জন্য সহজ ঋণ দেওয়া হয়, তাহলে শ্রমিকদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের জন্য তহবিল গঠন করতে হবে।
যদি শিল্প মালিকের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের কথা বিবেচনা করা হয়, তাহলে শ্রমিকের ভবিষ্যৎ জীবিকার কথা কেন বিবেচনা করতে হবে। এগুলো শিল্পকে টেকসই করার প্রশ্ন। শ্রমিকের নিরাপত্তা ছাড়া কোনো শিল্পই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না।
বাংলাদেশের সামনে এখন একটি বড় সুযোগ রয়েছে। আমরা চাইলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরকে শুধু পরিবেশ রক্ষার কর্মসূচি হিসেবে না দেখে একটি নতুন সামাজিক ও অর্থনৈতিক চুক্তির ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারি যেখানে পরিচ্ছন্ন শক্তি থাকবে, দূষণ কমবে, নতুন শিল্প গড়ে উঠবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং একই সঙ্গে পুরোনো শিল্পের শ্রমিকরাও নিরাপদ ভবিষ্যৎ পাবেন।
সেই বাংলাদেশে কোনো শ্রমিককে বলা হবে না—‘পরিবেশ রক্ষার জন্য তোমার চাকরি চলে গেছে, এখন তোমার ভবিষ্যৎ তোমাকেই দেখতে হবে।’
বরং রাষ্ট্র বলবে—‘শিল্প ও প্রযুক্তি পরিবর্তিত হচ্ছে, কিন্তু তুমি এই পরিবর্তনের অংশ। তোমার দক্ষতা উন্নত করা হবে, তোমাকে নতুন কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা হবে এবং তোমার পরিবারকে এই রূপান্তরের সময় সুরক্ষা দেওয়া হবে। এটাই হতে পারে প্রকৃত জাস্ট ট্রানজিশন।
পরিবেশ রক্ষা অবশ্যই করতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে হবে। নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার ঘটাতে হবে। গ্রিন শিল্প গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু এই পরিবর্তনের মূল্য যেন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে তাদের চাকরি, আয় ও জীবিকা দিয়ে পরিশোধ করতে না হয়।
কারণ জলবায়ু রক্ষার নামে যদি শ্রমিকের জীবন অনিরাপদ হয়ে পড়ে, তাহলে সেই উন্নয়ন পূর্ণাঙ্গ নয়। আর যে সবুজ অর্থনীতিতে শ্রমিকের জন্য নিরাপদ চাকরি, ন্যায্য মজুরি, সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা নেই, সেই সবুজ অর্থনীতি আসলে কতটা ‘সবুজ’—সেটিও আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে।
অতএব, এখন সময় এসেছে বাংলাদেশে ‘গ্রিন ট্রানজিশন’ নয়, ‘গ্রিন অ্যান্ড জাস্ট ট্রানজিশন’-এর দাবি তোলার। সরকারের উচিত অবিলম্বে চাকরি হারানো শ্রমিকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা, একটি জাতীয় জাস্ট ট্রানজিশন নীতি প্রণয়ন করা, শ্রমিকদের জন্য ন্যায়সংগত রূপান্তর তহবিল গঠন করা এবং নতুন সবুজ শিল্পে পুরোনো শিল্পের শ্রমিকদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা দেওয়া।
শুধু শিল্প মালিকের বিনিয়োগ রক্ষা নয়—শ্রমিকের জীবন ও ভবিষ্যৎও রক্ষা করতে হবে। কারণ পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ তখনই সত্যিকার অর্থে টেকসই বাংলাদেশ হবে, যখন সেই বাংলাদেশের বাতাস হবে নির্মল, শিল্প হবে সবুজ, অর্থনীতি হবে শক্তিশালী এবং শ্রমিকের জীবন হবে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ।
লিখেছেনঃ খাইরুল মামুন মিন্টু, আইন ও দর কষাকষি বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র।





