আমাদের মানব জীবনের এক অদ্ভুত অসঙ্গতি হলো – যা অনিবার্য, তা নিয়েই আমাদের উদ্বেগ যেন সবচেয়ে বেশি। জীবনের কেন্দ্রে আমাদের নিরন্তর আবর্তন চলে "বেঁচে থাকা"কে ঘিরে। আমরা অবিরাম গণনা করি আর ভাবি—আর কত দিন বাঁচব? কেমন হবে সেই বেঁচে থাকার পথ? সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন লাভের জন্য কতই না চেষ্টা, কতই না সতর্কতা! জীবনের প্রতি এই মমতা, এই টান খুবই স্বাভাবিক, কিন্তু এর আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক গভীর বৈপরীত্য।
আমরা সবাই
জানি, আমাদের জীবনের শেষ পরিণতি হলো মৃত্যু। এটি একটি চরম, নিশ্চিত এবং
অবশ্যম্ভাবী সত্য। পৃথিবীর বুকে এমন কোনো প্রাণী নেই যার জীবন অনন্ত। যে যাত্রা
শুরু হয়েছে, তার সমাপ্তি ঘটবেই।
যদি মৃত্যু
এতই নিশ্চিত হয়, তাহলে যা আসবেই, যা আটকানো অসম্ভব, তা নিয়ে এত বেশি চিন্তা করা বা
আতঙ্কিত হওয়া কি মূর্খতা নয়?
বড়জোর আমরা এই
নিশ্চিত সত্যকে উপেক্ষা করতে পারি, বা এর থেকে পালিয়ে বেড়ানোর চেষ্টা করতে পারি,
কিন্তু তাতে সত্যের কোনো পরিবর্তন হবে না। এই ভাবনাটিই আমাদের জীবনের দৃষ্টিকোণ
বদলে দিতে পারে। যেহেতু আমাদের "কত দিন বাঁচব" এই প্রশ্নের উত্তর
অনিশ্চিত কিন্তু "মৃত্যু আসবেই" এই উত্তরটি নিশ্চিত, তাহলে জীবনকে দীর্ঘ
করার চিন্তা না করে, একে গভীর করার দিকে মনোযোগ দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
বরং, এই
অনিবার্যতার সত্যকে গ্রহণ করে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্যবান করে তোলা উচিত।
চিন্তা করা উচিত—আমরা কিভাবে
বাঁচব? আমাদের স্বল্প সময়ের যাত্রায় আমরা কী ছাপ রেখে যাব? প্রেম, সহানুভূতি,
সৃষ্টিশীলতা, আর অর্থপূর্ণ কাজ দিয়ে জীবনকে ভরে তোলাই কি শ্রেষ্ঠ পথ নয়?
জীবনকে তার
সমগ্রতা দিয়ে গ্রহণ করার অর্থ হলো—মৃত্যুকে
তার অবশ্যম্ভাবী অংশ হিসেবে মেনে নেওয়া। এই স্বীকারোক্তি আমাদের বাঁচিয়ে থাকার
উদ্বেগকে প্রশমিত করে, এবং জীবনের ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্যকে পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করার
সাহস যোগায়। কারণ, যা নিশ্চিত তা নিয়ে আর নয় দুশ্চিন্তা; এখন সময় নিশ্চিতভাবে
বাঁচবার।

No comments:
Post a Comment