গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরের শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি, অবিলম্বে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ করতে হবে এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাস থেকেই নতুন মজুরি কার্যকর করতে হবে। এই দাবিতে শ্রমিক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের পক্ষে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক কিছু উদ্যোগের কথা জানা গেলেও, সেই উদ্যোগ কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং শ্রমিকদের ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের দাবি পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় তৈরি হয়েছে।
শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষাপটে গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়নের জন্য বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনকে এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়নের জন্য জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলকে চিঠি পাঠিয়েছে। তবে ওই চিঠিতে নির্দিষ্ট করে কোনো শিল্প খাতের নাম উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, কিংবা এই বোর্ডের মাধ্যমে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হবে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে মন্ত্রণালয়ের এই চিঠি গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণের উদ্যোগের অংশ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
এদিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার জানিয়েছেন, আগামী ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় মজুরি বোর্ড গঠন নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। পাশাপাশি গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরের শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণের জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। এর আগে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রীও জানিয়েছিলেন, অক্টোবর মাসের মধ্যেই গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরের শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণের লক্ষ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে।
সরকারের এসব বক্তব্যে শ্রমিকদের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে আশার সঞ্চার হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশ্ন উঠছে, অক্টোবর মাসে মজুরি বোর্ড গঠন করলেই কি ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন মজুরি কার্যকর করা সম্ভব হবে? সরকার যদি সত্যিই ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি বাস্তবায়ন করতে চায়, তাহলে মজুরি বোর্ড গঠন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত গ্রহণ, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় পর্যালোচনা, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের আলোচনা এবং চূড়ান্ত সুপারিশ প্রণয়নের কাজ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
এখানেই শ্রমিকদের মূল উদ্বেগ। কারণ, মজুরি বোর্ড গঠন করাই নতুন মজুরি কার্যকরের শেষ ধাপ নয়; বরং এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সূচনা। বোর্ড গঠনের পর কত দ্রুত আলোচনা শুরু হবে, কত দিনের মধ্যে শ্রমিকদের প্রস্তাব ও দাবি বিবেচনা করা হবে, মালিকপক্ষ কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেবে এবং সরকার কত দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে—এসব বিষয়ের ওপরই নির্ভর করবে নতুন মজুরি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের সময়সীমা।
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩৯ ধারার উপধারা (২) অনুযায়ী, মজুরি বোর্ড গঠনের পর বোর্ড ছয় মাসের মধ্যে সরকারের কাছে তার সুপারিশ পেশ করবে। তবে বোর্ডের অনুরোধে সরকার এই সময়সীমা বৃদ্ধি করতে পারে। আইনের এই বিধান বিবেচনায় নিলে অক্টোবর মাসের শেষ দিকে মজুরি বোর্ড গঠিত হলে ডিসেম্বরের মধ্যে বোর্ডের সুপারিশ প্রণয়ন ও সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সময় পাওয়া যাবে অত্যন্ত সীমিত। ফলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক—সরকারের ঘোষিত সময়সীমা অনুযায়ী অক্টোবর মাসে বোর্ড গঠন করা হলে ডিসেম্বর ২০২৬ থেকেই নতুন মজুরি বাস্তবায়নের দাবি কীভাবে পূরণ করা হবে?
অবশ্য আইনে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ দেওয়ার বিধান থাকলেও, তার অর্থ এই নয় যে মজুরি বোর্ডকে অবশ্যই ছয় মাস সময় নিতে হবে। বোর্ড চাইলে দ্রুততার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ের আগেই সুপারিশ জমা দিতে পারে। সরকারও চাইলে বোর্ড গঠনের পর থেকেই একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে পারে। অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কার্যকর করা আইনগতভাবে একেবারেই অসম্ভব—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তবে এ জন্য সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক তৎপরতা এবং মালিকপক্ষের আন্তরিকতা অপরিহার্য।
এখন প্রশ্ন হলো, সরকার কি সত্যিই ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন মজুরি কার্যকর করতে চায়, নাকি মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েই আপাতত শ্রমিকদের আন্দোলনকে শান্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে? অক্টোবর মাসে বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পরও যদি বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হতে বিলম্ব হয়, আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করা হয় কিংবা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে নতুন মজুরি ঘোষণার সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে শ্রমিকদের মধ্যে সরকারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে অবিশ্বাস আরও বাড়বে।
শ্রমিকদের আশঙ্কা, মজুরি বোর্ড গঠনের পর মালিকপক্ষের আপত্তি, শিল্পের সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা কিংবা রপ্তানি পরিস্থিতির মতো বিভিন্ন বিষয় সামনে এনে নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা হতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে শ্রমিকদের এই আশঙ্কাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এখন পর্যন্ত সরকার বা মালিকপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে মজুরি ঘোষণা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। তা সত্ত্বেও, সরকারের ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবায়নের সময়সীমার সামঞ্জস্য না থাকলে শ্রমিকদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক।
স্মরণ করা প্রয়োজন, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছিল। তখন শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ন্যূনতম মজুরি ২৩ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু শ্রমিকদের সেই দাবি পূরণ হয়নি। পরবর্তী সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। অথচ শ্রমিকদের মজুরি সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি। ফলে বর্তমান মজুরিতে একজন শ্রমিকের নিজের এবং পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে।
একজন গার্মেন্টস শ্রমিককে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাজ করে যে মজুরি উপার্জন করতে হয়, তা দিয়ে মাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিবারের খাবার, বাসাভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা, পোশাক এবং যাতায়াতের খরচ মেটানো কঠিন। অনেক শ্রমিককে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই ধারদেনা করতে হয়। কেউ খাবারের খরচ কমিয়ে দেন, কেউ সন্তানের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কিনতে পারেন না, আবার কেউ অসুস্থ হয়েও অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। শ্রমিকের আয়ের তুলনায় ব্যয় যখন ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তখন শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, পরিবারে মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তাও বাড়তে থাকে।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি কেবল একটি অর্থনৈতিক হিসাব নয়; এটি শ্রমিকের জীবন, মর্যাদা এবং পরিবারের ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। দেশের রপ্তানি আয়ের একটি বড় অংশ যে শ্রমিকদের ঘাম, শ্রম ও দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল, সেই শ্রমিকদের যদি ন্যূনতম জীবনধারণের নিশ্চয়তা না থাকে, তাহলে শিল্পের টেকসই উন্নয়নও প্রশ্নের মুখে পড়ে। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা কোনো দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় নয়; এটি শ্রমের ন্যায্য মূল্য প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্ন।
এ অবস্থায় সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে, অক্টোবর মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণার সঙ্গে ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের দাবির বাস্তবায়ন কীভাবে সমন্বয় করা হবে। মজুরি বোর্ড গঠনের পর সুপারিশ প্রদানের জন্য ছয় মাস পর্যন্ত সময় নেওয়ার সুযোগ থাকলেও, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার জরুরি বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার ও বোর্ডকে দ্রুততম সময়ে কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিতে হবে। বোর্ডের কার্যক্রমের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা, শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতামত গ্রহণ, জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয় বিবেচনায় মজুরি নির্ধারণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
একই সঙ্গে মজুরি নির্ধারণের আলোচনায় শুধু মালিকপক্ষের ব্যবসায়িক স্বার্থ কিংবা শিল্পের উৎপাদন ব্যয়ের হিসাবকে প্রাধান্য দিলে চলবে না। শ্রমিকের খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াত এবং পরিবারের অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে কত টাকা প্রয়োজন, সেই বাস্তব হিসাবকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও শিল্পের সক্ষমতা বিবেচনা করা যেতে পারে, কিন্তু সেই বিবেচনার নামে শ্রমিকদের দারিদ্র্যের মধ্যে আটকে রাখার কোনো যুক্তি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সরকার যদি অক্টোবর মাসেই মজুরি বোর্ড গঠন করে, তাহলে সেই উদ্যোগের সঙ্গে ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখাও ঘোষণা করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, বোর্ড গঠন করে যদি কার্যক্রম দীর্ঘায়িত করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে নতুন মজুরি ঘোষণার সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে শ্রমিকদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হবে, তার দায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এড়াতে পারবে না। কারণ, শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। তাদের কাছে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়; এটি জীবনযাত্রার সংকট থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি প্রত্যাশা।
এখন শ্রমিকদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—সরকারের ঘোষণার ওপর আস্থা রেখে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন, নাকি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা আদায়ে আন্দোলন আরও জোরদার করবেন? সরকার ও মালিকপক্ষের উচিত হবে না শ্রমিকদের এই প্রশ্নের উত্তর অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখে দেওয়া। শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত গ্রহণে যত বেশি বিলম্ব হবে, ততই তাদের আর্থিক সংকট বাড়বে এবং শিল্পাঞ্চলে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে।
নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া কোনোভাবেই সময়ক্ষেপণের হাতিয়ার হতে পারে না। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে এবং ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে।
গার্মেন্টস শ্রমিকরা এমনিতেই স্বল্প মজুরি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং চাকরির অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবারও যদি তাদের দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে রাখা হয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে। শ্রমিকরা আর আশ্বাস নয়, কার্যকর সিদ্ধান্ত দেখতে চান। তারা এমন মজুরি চান, যা দিয়ে নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকা সম্ভব।
সরকারের প্রতি তাই আহ্বান—মজুরি বোর্ড গঠন নিয়ে আর কোনো অনিশ্চয়তা নয়, সময়ক্ষেপণ নয়, নতুন মজুরি বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো অজুহাত নয়। দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করুন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুপারিশ প্রণয়ন ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করুন এবং শ্রমিকদের ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের দাবিকে বাস্তবে রূপ দিন।
কারণ, শ্রমিকদের জীবন অপেক্ষা করতে পারে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রতিদিনের বাস্তবতা, বাড়িভাড়া প্রতি মাসের দায় এবং পরিবারের খাবার ও চিকিৎসার ব্যয় প্রতিদিনের প্রয়োজন। এই বাস্তবতায় নতুন মজুরি কার্যকরের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া মানে শ্রমিকদের আরও দীর্ঘ সময় আর্থিক সংকটের মধ্যে ঠেলে দেওয়া।
শ্রমিকদের প্রশ্ন স্পষ্ট: অক্টোবর মাসে মজুরি বোর্ড গঠন হলে ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কার্যকর করার নিশ্চয়তা কোথায়? আর যদি সরকার ও মালিকপক্ষের নানা অজুহাতে সেই সময়সীমা পিছিয়ে যায়, তাহলে শ্রমিকরা কি তা মেনে নেবেন?
এই প্রশ্নের উত্তর এখন সরকারকেই দিতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি পূরণে আর বিলম্ব নয়—প্রয়োজন দ্রুত সিদ্ধান্ত, দৃশ্যমান উদ্যোগ এবং প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন।
লিখেছেনঃ খাইরুল মামুন মিন্টু, ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী।

No comments:
Post a Comment