তবে কাগজ-কলমের এই হিসাব বা ভুল তথ্যের পেছনের বিতর্ক যাই হোক না কেন, বাস্তব চিত্রটি যে আরও অনেক বেশি করুণ ও ভয়াবহ—তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। পরিসংখ্যান যা-ই বলুক না কেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) খাতসহ সামগ্রিক শিল্প খাতে যে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রকৃত ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে সাধারণ শ্রমিকদের।
একের পর এক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং উৎপাদনে স্থবিরতা দেখা দেওয়ার কারণে ইতিমধ্যে লাখ লাখ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। পরিসংখ্যানের খাতায় সংখ্যাটি হাজার বা লাখে সীমাবদ্ধ হলেও, বাস্তবে এটি লাখ লাখ পরিবারের অন্নসংস্থানের পথ বন্ধ হওয়ার গল্প।
চাকরি হারানো এই বিশাল জনগোষ্ঠী রাতারাতি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে বিকল্প কোনো আয়ের উৎস না থাকায় শ্রমিক পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে মারাত্মক মানবিক বিপর্যয়।
শিল্প খাতের এই অচল অবস্থা এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ বেকার হয়ে পড়ার পর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ছিল দ্রুততম সময়ে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো: বেকার হয়ে পড়া এই বিপুলসংখ্যক পোশাক শ্রমিকের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এখনো চোখে পড়ছে না।
শিল্প কারখানায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং শ্রমিকদের সুরক্ষায় দৃশ্যমান ও বলিষ্ঠ কোনো পদক্ষেপ বা উদ্যোগের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
পরিসংখ্যানের নানা জটিলতা বা প্রাতিষ্ঠানিক রদবদলের খবরের চেয়েও আজকের দিনে বড় সত্য হলো মাঠপর্যায়ের কঠোর বাস্তবতা। তথ্যের বিভ্রান্তি সাময়িকভাবে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হলেও, কোটি মানুষের জীবিকার এই সংকটকে জিইয়ে রেখে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা সম্ভব নয়। কারখানাগুলোকে দ্রুত সচল করা এবং বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার জন্য অবিলম্বে সরকারের কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবি।
লিখহেছেনঃ খাইরুল মামুন মিন্টু, আইন ও দর কষাকষি বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র

No comments:
Post a Comment