যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের প্রাণভোমরা
হয় এমন একজন মানুষ, যার কাছে সেই প্রতিষ্ঠানটি কেবল জীবিকা বা দায়িত্ব নয়, বরং লালিত
একটি স্বপ্ন।
একটি প্রতিষ্ঠান যখন সাফল্যের শিখরে পৌঁছায়,
তখন বাইরের পৃথিবী হয়তো তার জাঁকজমক আর বড় বড় সংখ্যাগুলোই দেখে। কিন্তু সেই সাফল্যের
পেছনে থাকে কারো একজনের নির্ঘুম রাত, অদম্য জেদ আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। একটি সংগঠনে
শত শত কর্মী থাকতে পারে, কিন্তু সবার দায়বদ্ধতা বা মানসিক সংযোগ একরকম হয় না। অধিকাংশের
কাছে প্রতিষ্ঠানটি হয়তো কেবল একটি কর্মস্থল, কিন্তু সেই 'বিশেষ একজনের' কাছে এটি তার
অস্তিত্বের অংশ।
প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ছোট ছোট উন্নতি সেই
মানুষটির চোখে আনন্দ অশ্রু আনে। তিনি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যকে নিজের ব্যক্তিগত জয় হিসেবে
দেখেন। যখন সবাই কাজ শেষে ঘড়ি ধরে বাড়ি ফিরে যায়, সেই মানুষটি তখনও হয়তো ভাবছেন কীভাবে
প্রতিষ্ঠানটিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া যায়। তার কাছে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ মানে কেবল
কিছু কাগুজে হিসাব নয়, বরং একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন।
সবাই যখন ব্যর্থতার দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে
দিয়ে নিজের পাল্লা হালকা করতে ব্যস্ত থাকে, তখন সেই একজন মানুষই বুক পেতে সবটুকু ব্যর্থতা
মেনে নেন। প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হলে বা কোনো লক্ষ্য অর্জিত না হলে তিনি যে বেদনা অনুভব
করেন, তা অন্য কারোর পক্ষে উপলব্ধি করা কঠিন। সেই দুঃখ তাকে বিচলিত করে ঠিকই, কিন্তু
দমাতে পারে না; বরং সেই ব্যর্থতা থেকেই তিনি ঘুরে দাঁড়ানোর রসদ খুঁজে নেন।
সবাই প্রতিষ্ঠানের প্রতি সমান দরদ বা মমতা
অনুভব করবে—এমনটা আশা করা হয়তো বাস্তবসম্মত নয়। অধিকাংশ মানুষই তাদের
নির্দিষ্ট দায়িত্বটুকুর বাইরে আর ভাবতে চান না। এখানেই সেই একজনের প্রয়োজনীয়তা দেখা
দেয়। তাকেই সব ভালো-মন্দের দায়ভার নিতে হয়। সংকটের সময়ে যখন সবাই দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য
হয়ে পড়ে, তখন সেই নিঃসঙ্গ নাবিকই শক্ত হাতে হাল ধরেন।
এই ধরণের মানুষরা প্রতিষ্ঠানের প্রতি যে
ভালোবাসা দেখান, তা কোনো বেতন বা পদমর্যাদা দিয়ে কেনা সম্ভব নয়। এটি এক ধরণের আত্মিক
টান। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ইট-পাথর আর প্রতিটি কর্মীর ভালো-মন্দের সাথে তিনি নিজেকে
জড়িয়ে নেন। তার এই "মালিকানাসুলভ মানসিকতা" (Ownership Mindset) থেকেই জন্ম
নেয় এমন এক নেতৃত্ব, যা একটি সাধারণ সংগঠনকে অসাধারণ উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
যেকোনো সফল প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসের পাতায়
এমন একজন নিবেদিত মানুষের গল্প লুকিয়ে থাকে। তিনি হয়তো সবসময় সামনের সারিতে থাকেন না,
কিন্তু তার নিঃশব্দ পরিশ্রম আর অকৃত্রিম ভালোবাসাই প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখে। সবার
মমতা হয়তো সমান হয় না, কিন্তু সেই একজনের 'দরদ' ই প্রতিষ্ঠানের আসল শক্তি।
KM
Mintu

No comments:
Post a Comment