আমার জীবনটা যেন এক রহস্যময় ধারায় বয়ে চলেছে।
অন্য অনেক পরিবারের মতো আমাদের পরিবারে দারিদ্র্যের ছায়া ছিল না, তবু আমার পড়াশোনা
এগোয়নি। কেন এগোয়নি—তা আমার অজানা নয়। বাবা–মা না থাকায় পরিবারের
অন্য সদস্যদের তত্ত্বাবধানে বড় হওয়া, আর অল্প বয়স থেকেই পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে
পড়াই হয়তো তার প্রধান কারণ। তবে সত্যি বলতে কী, পড়াশোনার প্রতি যদি আমার ইচ্ছেটা আরও
প্রবল হতো, তাহলে হয়তো সেই পথটাও তৈরি হয়ে যেত। এখানে হয়তো আমার নিজেরই কিছু গাফিলতি
ছিল—এই সত্য অস্বীকার
করি না।
পারিবারিক নানা বাস্তবতায় মাত্র আঠারো বছর
বয়সেই কাজের সন্ধানে আমাকে ঢাকা শহরে আসতে হয়েছিল। পড়াশোনার সার্টিফিকেট না থাকলেও
জীবন আমাকে শিখিয়েছে বাস্তবতার কঠিন পাঠ। সেই পাঠেই ভর করে আজ পর্যন্ত আমি তুলনামূলকভাবে
সফলভাবেই জীবনযাপন করে চলেছি—এটাই আমার আত্মতৃপ্তি।
তবে জীবনের আরেকটি অধ্যায় আছে, যেটা বরাবরই
নীরব। আমি আমার ভালোবাসার মানুষটিকে শুধু দূর থেকেই দেখেছি। তার কাছে যাওয়া, নিজের
মনের কথাগুলো খুলে বলা—সে সাহস কোনোদিনই হয়ে ওঠেনি। কেন পারিনি,
তার উত্তর আজও খুঁজে পাই না। তবু এটুকু জানি, আমার ভেতরে প্রেম আছে বলেই হয়তো আমার
জীবনটা সুন্দর। না পাওয়া প্রেম কষ্ট দেয়—ভীষণ কষ্ট দেয়—তবুও সেই কষ্টের
মাঝেই এক অদ্ভুত সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে।
যে বয়সে গভীর প্রেম থাকার কথা ছিল, হয়তো
তখন তা ছিল না। কিন্তু আজ, এই বয়সে এসে হঠাৎ করেই মনে হয়—আমি যেন এক গভীর
প্রেমে পড়ে গেছি। মনে হয়, কেউ একজন আমার ভরসার জায়গা হতে পারত, যার হাত ধরে আগামীর
পথচলার স্বপ্নগুলো আরও রঙিন হয়ে উঠত। এই ভাবনাটুকুই মনকে আনন্দে ভরিয়ে দেয়।
হয়তো এসবই আমার কল্পনা। কিন্তু কল্পনাটাও
যে কী অসম্ভব সুন্দর! জানি, বাস্তবে এর কিছুই হবে না—তবুও আমি তোমাকে
নিয়েই স্বপ্ন দেখি। কারণ মানুষ তো শেষ পর্যন্ত বাঁচে স্বপ্ন নিয়েই। না পাওয়ার বেদনা
বুকে নিয়েও, এই প্রেমের অনুভূতিটুকু সঙ্গে করে আগামীর পথে এগিয়ে চলাই আমার বেঁচে থাকার
শক্তি।
KM
Mintu

No comments:
Post a Comment