বেক্সিমকো
গ্রুপের বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো আবার চালু হওয়ার খবরে নতুন করে আশা জেগেছে।
জাপানের রিভাইভাল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইকোমিলি
এই দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের যৌথ বিনিয়োগে এই উদ্যোগ নেওয়া
হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এই নতুন
উদ্যোগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুরোনো এক বিষণ্ণ অধ্যায়
বেক্সিমকোর হাজারো চাকরিচ্যুত শ্রমিকের মানবেতর জীবন। কারখানা
বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যারা চাকরি হারিয়েছেন, তাদের জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার। অনেকের
সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে, কেউ কেউ শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরে যেতে বাধ্য
হয়েছেন। তাদের জীবনের এই কষ্ট আমাদের সবার জন্যই গভীর উদ্বেগের বিষয়।
নতুন বিনিয়োগ
ও কারখানার কার্যক্রম শুরু হওয়ার এই শুভক্ষণে, সরকারের পাশাপাশি বেক্সিমকো
কর্তৃপক্ষ এবং নতুন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ,
কারখানায় নতুন করে শ্রমিক নিয়োগের সময় যেন চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া
হয়। এই শ্রমিকরা কারখানার সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে যুক্ত ছিলেন, তাদের অভিজ্ঞতা এবং
দক্ষতা নতুন করে নিয়োগপ্রাপ্তদের চেয়ে অনেক বেশি। তাদের এই অভিজ্ঞতা কারখানার
উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
চাকরিচ্যুত
শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হলে তা শুধু মানবিকতার দৃষ্টান্তই হবে না, বরং এটি
একটি টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়নেরও প্রতিফলন ঘটাবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে
প্রমাণিত হবে যে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন শুধুমাত্র পুঁজি বিনিয়োগের মধ্যে
সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশটির প্রতি সংবেদনশীলতাও প্রদর্শন
করে।
আমরা আশা করি,
সরকার, বেক্সিমকো কর্তৃপক্ষ এবং নতুন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে এমন
একটি সিদ্ধান্ত নেবে যা হাজারো শ্রমিকের জীবনে আবার স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে এবং তাদের
পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবে।
লিখেছেনঃ
খাইরুল মামুন মিন্টু, আইন বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক
ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র

No comments:
Post a Comment