Followers

Tuesday, September 2, 2025

শ্রমিকের রক্তে ভেজা একুশ শতকের বাংলাদেশ

 

বৈষম্যের শিকল ভেঙে অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকেরা যুগে যুগে জীবন দিয়েছেন। তবুও রাষ্ট্রের চোখে তারা যেন মানুষ হিসেবে গণ্য হতে পারেন না, রয়ে যান কেবলই ‘শ্রমিক’ হয়ে। এই অমানবিক বাস্তবতা আবারও সামনে এসেছে এভারগ্রিন প্রোডাক্টস ফ্যাক্টরি বিডি লিমিটেডের (হংকং) শ্রমিক আন্দোলনে। নিজেদের ন্যায্য অধিকার অবৈধভাবে ছাঁটাই বন্ধ, বন্ধ কারখানা চালু করা এবং অন্যান্য ২৩ দফা দাবীর জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে শ্রমিকেরা যৌথবাহিনীর নির্বিচার গুলির শিকার হয়েছেন। এই বর্বর আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন হাবিবুর রহমান নামের একজন শ্রমিক এবং গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও প্রায় ১২ জন।

হাবিবুর রহমান, যিনি নীলফামারী সদর উপজেলার কাজিরহাট গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে, তার অপরাধ কী ছিল? তিনি তো কেবল তার কাজের ন্যায্যতা চেয়েছিলেন। যে শ্রমিক তার শ্রম দিয়ে কারখানার চাকা সচল রাখে, দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়, সেই শ্রমিকের জীবন কি উৎপাদিত পণ্যের চেয়েও সস্তা? রাষ্ট্রের আচরণ দেখে এমন প্রশ্নই বারবার মনের মধ্যে উঁকি দেয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মূল দায়িত্ব ছিল শ্রমিকদের দাবীগুলো নিয়ে মালিকপক্ষের সাথে একটি আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান করা। কিন্তু তারা তা না করে উল্টো শ্রমিকদের উপর গুলি চালিয়েছে। এমন ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন সরকারের আমলে শ্রমিকেরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বুলেটের শিকার হয়েছেন। এই রক্তক্ষয়ী ইতিহাস আবারও প্রমাণ করে যে রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছে শ্রমিকের জীবন তুচ্ছ।

একটি কারখানার মূল্য, তার উৎপাদিত পণ্যের মূল্য এসবের চেয়ে একজন শ্রমিকের জীবনের মূল্য অনেক বেশি হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটে না। এই বৈষম্য আর অবজ্ঞার কারণেই শ্রমিকেরা বারবার প্রাণ হারাচ্ছেন, আর এসব হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হচ্ছে না।

শ্রমিকের রক্ত ঝরছে, কিন্তু তার অধিকারের পথ এখনও মসৃণ হয়নি। এই নির্মম বাস্তবতা কি বদলাবে না? রাষ্ট্র কি তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি, অর্থাৎ শ্রমিকদের, মানুষ হিসেবে সম্মান দিতে শিখবে না? যতদিন এই প্রশ্নের উত্তর না মিলছে, ততদিন শ্রমিকদের লড়াই চলবে, আর ঝরতে থাকবে তাদের রক্ত।

লিখেছেনঃ খাইরুল মামুন মিন্টু, আইন ও দর কষাকষি বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র

1 comment:

  1. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মূল দায়িত্ব ছিল শ্রমিকদের দাবীগুলো নিয়ে মালিকপক্ষের সাথে একটি আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান করা।

    ReplyDelete

মহান মে দিবস: শ্রমিকের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্য বাংলাদেশের প্রত্যাশা

পৃথিবীর শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের ইতিহাসে মহান মে দিবস এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্...