বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি আসে পোশাক খাত থেকে। বিশ্ববাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগটি আমাদের গর্বের জায়গা। কিন্তু এই বিশাল সাফল্যের পেছনে থাকা লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের জীবনচিত্র অত্যন্ত করুণ। মাসের পর মাস কাজ করার পরও যখন বেতন পাওয়া যায় না, তখন সেই শ্রমিকের কাছে অর্থনীতির এই প্রবৃদ্ধি কেবল একটি সংখ্যা মাত্র।
শ্রমিকরা শখ করে রাজপথে নামেন না; বরং দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেই তারা আন্দোলনের পথ বেছে নেন। এর পেছনে প্রধান কিছু কারণ হলো:
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কারখানার মালিকরা লভ্যাংশ পেলেও শ্রমিকদের পাওনা দিতে গড়িমসি করেন।কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই লে-অফ বা কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে শ্রমিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। বর্তমান বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী। এক মাসের বেতন বকেয়া হওয়া মানেই শ্রমিকের ঘরে উনুন না জ্বলা এবং ঋণের জালে জড়িয়ে পড়া।
প্রতিদিন কোথাও না কোথাও শ্রমিকদের এই আন্দোলন কেবল রাস্তা অবরোধ বা যানজট তৈরি করছে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করছে। বারবার রাস্তা অবরোধের ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিদেশী ক্রেতারাও (Buyers) অনেক সময় মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
যেসব মালিক ইচ্ছাকৃতভাবে বেতন আটকে রাখেন, তাদের বিরুদ্ধে শ্রম আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিজিএমইএ (BGMEA) এবং সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করতে হবে যাতে কোনো কারখানায় বকেয়া না জমে।
শ্রমিকদের জন্য স্বল্পমূল্যে নিত্যপণ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করলে তাদের জীবনযাত্রার চাপ কিছুটা কমবে।
কোনো কারখানা দেউলিয়া হলে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের জন্য একটি স্থায়ী আপদকালীন তহবিল গঠন করা প্রয়োজন।
গার্মেন্টস শিল্পকে টেকসই করতে হলে শ্রমিকের পেটে খিদে রেখে তা সম্ভব নয়। মালিক, সরকার এবং শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে সঠিক সমন্বয় এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলেই রাজপথের এই দীর্ঘ মিছিল বন্ধ হবে। শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করা কেবল একটি নৈতিক দায়িত্বই নয়, বরং এটি এই শিল্পের টিকে থাকার প্রধান শর্ত।
আপনার কি মনে হয় এই সমস্যার সমাধানে সরকার নাকি মালিকপক্ষ—কার ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত?
খাইরুল মামুন মিন্টু, আইন ও দর কষাকষি বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র

No comments:
Post a Comment