ময়মনসিংহের ভালুকায় পাইওনিয়ার নিটওয়্যার গার্মেন্টসের শ্রমিক দীপু চন্দ্র
দাসের নৃশংস ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল অপরাধীর
দৃষ্টান্তমূলক বিচার আমরা জোরালোভাবে দাবি করছি। একই সঙ্গে নিহত দীপু চন্দ্র দাসের
পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। একজন শ্রমিককে এভাবে
অমানবিকভাবে হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার
নিশ্চিত না হলে শ্রমিকসমাজ ন্যায়বিচারের দাবিতে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। যদি এ
ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকে, তবে সমাজে কেউই
নিরাপদ থাকবে না। তাই অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের আশু বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
কারখানার মালিকের মৌলিক দায়িত্ব হলো তার অধীনস্থ শ্রমিকদের নিরাপত্তা
নিশ্চিত করা। কিন্তু এ ঘটনায় মালিক চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। শ্রমিককে
সুরক্ষা দেওয়ার পরিবর্তে তাকে মবের মুখে ঠেলে দিয়ে এমন একটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের
পথ সুগম করা হয়েছে। এই দায় মালিক কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য
মালিককেও দায় বহন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
ধর্মের নামে, ‘কাফের’ ফতোয়া
দিয়ে শ্রমিকের ওপর হামলা এবং নৃশংস হত্যাযজ্ঞ সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ ধরনের উগ্রতা ও সহিংসতা চলতে থাকলে সমাজে কোনো মানুষেরই নিরাপত্তা থাকবে না।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় অত্যাচারী শাসন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে শ্রমিকরা সংগঠিতভাবে
প্রতিবাদ করেছে এবং পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছে। আজ আবারও শ্রমিকের ওপর সংঘটিত এই নির্মমতার
বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ সংগঠিত করতে হবে।
দীপু চন্দ্র দাসের সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন শ্রমিক।
শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট থাকার কারণেই তাকে এমন মর্মান্তিক পরিণতির মুখোমুখি
হতে হয়েছে। শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে এ দেশের শিল্পব্যবস্থা চরম
ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
আমাদের সুস্পষ্ট ও দৃঢ় দাবি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলকে অবিলম্বে বিচারের আওতায়
আনতে হবে,
নিহতের পরিবারের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণ
নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে শ্রমিকের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা
গ্রহণ করতে হবে।
KM Mintu
.png)
.jpg)


.jpg)