Followers

Monday, February 16, 2026

নতুন সরকারের সামনে প্রধান দায়িত্ব

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন দেশের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে নতুন সম্ভাবনা ও বড় চ্যালেঞ্জ—দুই-ই সামনে এনেছে। বাংলাদেশ ২০২৪ সালের ছাত্র-শ্রমিক জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটে শেখ হাসিনা সরকারের। এর পর অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব গ্রহণ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং নির্বাচনের পথ সুগম করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে।

১৮ মাস পর জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে এগিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের পক্ষ থেকে আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই বিপুল সংসদীয় শক্তি নতুন সরকারের জন্য যেমন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সুযোগ সৃষ্টি করেছে, তেমনি জনগণের প্রত্যাশাও বহুগুণে বাড়িয়েছে।

গত ১৮ মাসে দেশের শিল্পখাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, বড় ধাক্কা খেয়েছে। প্রায় চার শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। অনেকের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান নেই, কারণ বন্ধ হওয়ার হার বাড়লেও নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার হার অত্যন্ত কম। বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ায় উৎপাদন খাতেও আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।

অনেক কারখানায় শ্রমিকদের বেতন নিয়মিত পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বকেয়া বেতন ও চাকরির নিরাপত্তার দাবিতে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। কিন্তু এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখনো দৃশ্যমান হয়নি। শ্রমিকদের অনিশ্চয়তা কেবল ব্যক্তিগত জীবনে নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে—ভোগ কমছে, সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে, উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে।

নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে জরুরি কাজগুলোর একটি হবে শিল্পখাত পুনরুজ্জীবিত করা। বিশেষ করে—

বন্ধ কারখানা দ্রুত চালু করা বা পুনর্বিন্যাস করা

শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ পুনরুদ্ধার করা

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শিল্পনীতি বাস্তবায়ন করা

শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা

এগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে শুধু শ্রমিকদের জীবনমানই উন্নত হবে না, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও গতি পাবে।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষের প্রধান প্রত্যাশা—স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান এবং ন্যায্য অর্থনৈতিক সুযোগ। নতুন সরকারের হাতে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে শিল্পখাত পুনর্গঠন এবং শ্রমিকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলার।

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি শ্রমজীবী মানুষ। তাদের কর্মসংস্থান ও অধিকার নিশ্চিত করা গেলে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুফল বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হবে। তাই সময়ের দাবি—দ্রুত, কার্যকর এবং শ্রমিকবান্ধব নীতি গ্রহণ।

KM Mintu 


No comments:

Post a Comment

নতুন সরকারের সামনে প্রধান দায়িত্ব

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন দেশের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে নতুন সম্ভাবনা ও বড় চ্যালেঞ্জ—দুই-ই সামনে এনেছে। বাংলাদেশ ২০২৪ সালের ছাত্...